নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি: নিজেরা হারবে জেনে দেশটাকে টুকরো টুকরো করার চেষ্টা করছে মোদি সরকার। এমনটাই দাবি করে শুক্রবার কোচবিহার রাসমেলার ময়দান থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর তোপ, এখন দেশে লোকসভায় ৫৪৩টি আসন রয়েছে। নিজেরা জানে হারবে, তাই এটাকে ৮৫০ করার চেষ্টা চালাচ্ছে মোদি সরকার। সেজন্যই মহিলা সংরক্ষণ সামনে রেখে ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে এসেছে।
এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জনগণের উদ্দেশ্যে তৃণমূল সুপ্রিমোর মন্তব্য, একদিন দেখবেন কোচবিহার আর নেই। উত্তর দিনাজপুর নেই। দার্জিলিং, শিলিগুড়িও হারিয়ে গিয়েছে। তবে, এমনটা হলে তৃণমূল কংগ্রেস যে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, সেটাও এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা। তাঁর হুংকার, বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লড়াই করেছিলেন। সঙ্গে ছিল বাংলা। আমি আশ্বস্ত করছি, যদি আপনাদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়, তাহলে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে। বাংলার মানুষের স্বার্থরক্ষাই যে তাঁর প্রথম শর্ত, সেটা মনে করিয়ে দিয়ে তৃণমূল নেত্রীর বার্তা, আমরা ছেড়ে কথা বলার লোক নই। সবাই মাথা নত করে। কিন্তু আমরা করি না।
‘বাংলা বিরোধী’ কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কাছে মাথানত না করায় যে অনেক অত্যাচার ও জুলুম সহ্য করতে হচ্ছে, উত্তরের মাটিতে দাঁড়িয়ে এদিন সেটাও জানিয়েছেন মমতা। বলেছেন, আমাদের উপর অত্যাচার চলছে। জুলুম চলছে। কিন্তু আমার বিশ্বাস, ধর্মের কল ঠিক বাতাসে নড়বে। ওরা (বিজেপি) ভাবছে এক, আর হবে আর এক। মোদি-শাহকে নিশানা করে তাঁর তোপ, এদের লজ্জা, ঘৃণা, ভয়-কিছুই নেই। সামনাসামনি লড়তে পারে না। ভীতু, কাপুরুষ।
ভোটের বাংলায় যেভাবে তৃণমূলের উপর ‘দমনপীড়ন’ চলছে, তা নিয়ে এদিন সরব হন নেত্রী। বলেন, এমন নির্বাচন কোনোদিন দেখিনি। সবটা গায়ের জোরে চলছে। বাংলার পুলিশের সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে বাইরের ফোর্সকে সামনে রেখে নানারকম ফন্দি আঁটা হচ্ছে। এপ্রসঙ্গে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে বিঁধতে ছাড়েননি মমতা। তাঁর তোপ, এর আগে অসম থেকে এনআরসি’র নোটিস পাঠানো হয়েছে। আর এখন অসমের মুখ্যমন্ত্রী এখানে (উত্তরবঙ্গে) এসে উঁকিঝুঁকি মারছেন। অসম থেকে ট্রেনে করে লোক নিয়ে এসে সেন্ট্রাল ফোর্সকে সামনে রেখে এখানে ভোট দেওয়ানোর ফন্দি আঁটা হয়েছে। কিন্তু তোমরা যতই ফন্দি কর, মানুষ তা ভেস্তে দেবে।