বিজেপির প্রচার গাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার
বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
মুতাহার কামাল, চোপড়া: বিজেপির পতাকা, ফ্লেক্স, ফেস্টুন এবং নমুনা ব্যালট পেপার ভর্তি গাড়িতে লুকিয়ে রাখা ছিল আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা কার্তুজ! বৃহস্পতিবার রাতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় চোপড়া বিধানসভার মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের সুইগছ এলাকায়। বিজেপির অভিযোগ, তাদের প্রার্থীর গাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে তৃণমূল। অন্যদিকে, অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূলের পালটা দাবি, খোদ বিজেপি প্রার্থীর প্রচারের গাড়ি থেকে পুলিশ এই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একে অপরের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগও উঠেছে। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে খবর, গণ্ডগোলের পর বিজেপি প্রার্থী সহ দলীয় কর্মীরা এলাকা থেকে চলে গেলে একটি পরিত্যক্ত ছোটগাড়ি থেকে পুলিশ দুটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং পাঁচটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে। গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। দুই দলই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। কোথা থেকে গাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র এল এবং এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত সত্য কী, তদন্ত শুরু করেছে চোপড়া থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচনি প্রচার শেষে চোপড়ার বিজেপি প্রার্থী শংকর অধিকারী আক্রান্ত এক কর্মীর শারীরিক খোঁজখবর নিতে সুইগছে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখান থেকে ফেরার পথেই বাধে বিপত্তি। বিজেপির দাবি, আচমকা ৫০-৬০ জনের একটি দুষ্কৃতী দল পথ আটকে শংকরের গাড়িতে হামলা চালায়। গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। হামলায় দুই বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। আমার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। বিজেপিকে ভয় পেয়েছে তৃণমূল। এলাকায় সন্ত্রাস চালিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে।
প্রচার গাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে বিজেপি নেতৃত্বের সাফাই, ওই পিকআপ ভ্যানটি তাদের নয়। বিজেপিকে বদনাম করার জন্য শাসকদল এই নোংরা চক্রান্ত করেছে। অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূল নেতা গোপাল ভৌমিক বলেন, পুলিশ বিজেপি প্রার্থীর প্রচারের গাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। কী উদ্দেশ্যে এই অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ঘোরা হচ্ছিল, তা পুলিশের খতিয়ে দেখা উচিত। তৃণমূল প্রার্থী হামিদুল রহমান বলেন, বিজেপি প্রার্থীর নামে আগে থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ সঠিক তদন্ত করে দেখুক।