দুই কোটিপতি প্রতিপক্ষকে জায়গা ছাড়তে নারাজ রানিনগরের লাখপতি বাম প্রার্থী
বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, ডোমকল: দু’ দিকে দুই ‘হেভিওয়েট’। একজন দাপুটে তৃণমূল নেতা, অন্যজন বিশাল ব্যবসায়ী। অর্থের দিক দিয়ে দু’জনেই কোটিপতি। আর তার মাঝেই হাতে মাত্র ১৫ হাজার টাকা নিয়েই একাই ভোটের ময়দানে চষে বেড়াচ্ছেন রানিনগরের সিপিএম প্রার্থী জামাল হোসেন। তারকাদের ভিড়ে যখন নিত্যদিন লাইমলাইটে রানিনগর বিধানসভা, তখন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের জ্বলন্ত সমস্যাকে হাতিয়ার করেই ঘর গোছাচ্ছেন তরুণ এই বাম নেতা।
প্রসঙ্গত, বাম জমানার শেষদিকে মুর্শিদাবাদ বিধানসভা ভেঙে তৈরি হয় রানিনগর বিধানসভা। রানিনগর ১ ও ২ ব্লকের মোট ১১টি অঞ্চল নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্র। এতদিন এই আসনে সরাসরি লড়াইয়ের বদলে শরিক দল বা কংগ্রেসকে সমর্থন দিয়ে এসেছে সিপিএম। তবে এবারে প্রথমবার নিজেদের প্রতীকে সরাসরি লড়াইয়ে নেমেছে তারা। ফলে কর্মীদের মধ্যে যেমন উৎসাহ বেড়েছে, তেমনই গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে মুর্শিদাবাদ লোকসভার সাতটি বিধানসভার মধ্যে একমাত্র এই আসনেই সিপিএমের লিড থাকায় বাড়তি আত্মবিশ্বাসও পেয়েছে বামেরা।
এই অবস্থায় সিপিএম প্রার্থী করেছে জামাল হোসেনকে। নাম ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় দাপিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। প্রতিদিনই এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে জনসংযোগ সারছেন। তাতে সাড়াও মিলছে। তবে সাড়া মিললেও যে একাই ভোট ময়দান জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি, এমনটা কিন্তু নয়। তাঁর প্রতিপক্ষরাও কম ‘হেভিওয়েট’ নন। তৃণমূলের ভরসা বিদায়ী বিধায়ক তথা দাপুটে নেতা সৌমিক হোসেনের ওপর। ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ভোট পেয়েছিলেন তিনি। এবারে সেই ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্যেই আগেভাগেই মাঠে নেমেছেন। নিত্যদিন টলিপাড়ার তারকাদের নিয়ে প্রচারে ঝড় তুলছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি প্রায় ৪ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীরও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সম্পত্তি।
অন্যদিকে কংগ্রেস প্রার্থী জুলফিকার আলিও কম যান না। তাঁর হলফনামা অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তি প্রায় ১১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা এবং অস্থাবর সম্পত্তি প্রায় ৫ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা। এই দুই ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীর তুলনায় সম্পত্তির নিরিখে অনেকটাই পিছিয়ে জামাল হোসেন। তাঁর হলফনামা অনুযায়ী, কৃষিজমি ও আবাসিক জমি মিলিয়ে স্থাবর সম্পত্তি প্রায় ৮৪ লক্ষ টাকা এবং অস্থাবর সম্পত্তি প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার কাছাকাছি। তবে অর্থবল কম হলেও প্রচারে পিছিয়ে নেই তিনি। কখনও চর এলাকা, কখনও বাজার-সব জায়গাতেই পৌঁছে যাচ্ছেন তিনি। এমনকি প্রচারের মাঝে প্রতিপক্ষের কর্মীদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করে ভোট চেয়ে নিচ্ছেন তিনি। এতে বিশেষ করে খেটে খাওয়া ক্ষেতমজুর ও শ্রমিকদের মধ্যে সাড়া মিলছে বলে দাবি বাম শিবিরের।
জামাল হোসেন বলেন, আমরা খেটে খাওয়া মানুষের হয়ে রাজনীতি করি। তাঁদের কষ্ট বুঝতে হলে তাঁদের সঙ্গে মিশতে হয়। তারকাদের এনে বিনোদন দেওয়া যায়, কিন্তু মানুষের কাছে পৌঁছনো যায় না। আমি মানুষের মধ্যেই থেকে তাঁদের সমস্যার কথা শুনছি। মানুষও আমাদের পাশে আছে। সমস্ত এলাকা থেকেই বিশাল মানুষের সমর্থন পাচ্ছি। আশা করি শেষপর্যন্ত মানুষ জিতবে।
অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী সৌমিক হোসেন বলেন, সিপিএম তাদের মতো করে লড়াই করছে। তবে মানুষ উন্নয়ন দেখেই ভোট দেবে। আশা করি, গতবারের মতো এবারও মানুষ তৃণমূলকেই নির্বাচিত করবে।