• হরিণঘাটায় ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলার, উত্তেজনা
    বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কল্যাণী: নির্দিষ্ট কারণ না জানিয়ে শুক্রবার আচমকাই গ্রেপ্তার করা হয় তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলার তথা হরিণঘাটা পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান রাজীবকুমার দালালকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হরিণঘাটা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এদিন রাজীবকে কল্যাণী মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ১৪ দিন জেল হেপাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। 

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিণঘাটা পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রাজীব দালালকে কল্যাণী থানার পুলিশ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। যদিও ঠিক কী কারণে গ্রেপ্তার, তা স্পষ্ট নয় বলে দাবি তৃণমূলের। তাদের অভিযোগ, কোনো নোটিস না দিয়েই শুক্রবার সকালে রাজীব দালালের বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালায় পুলিশ। শুধু তাই নয়, পুলিশ তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। 

    তৃণমূল সূত্রে খবর, নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসার দিনকয়েক আগে সমস্ত রাজনৈতিক দলের একজন করে প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক ডাকেন। সেখানে তৃণমূল প্রার্থীর এজেন্ট উত্তম সাহার সঙ্গে রাজীব দালালও উপস্থিত হন এবং খাতায় সইও করেন। অভিযোগ, যেকোনো একজন থাকতে পারবেন—এই নিয়মের কথা বলে রাজীববাবুকে নির্বাচন কমিশনের খাতা থেকে নাম কেটে দিতে বলা হয়। সেই ঘটনার পর এদিন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে গ্রেপ্তারির কোনো যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে চাইছেন না। 

    এদিকে, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি, থানায় গেলে হরিণঘাটার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রাজীব বিশ্বাস ও নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান চঞ্চল দেবনাথকে প্রথমে থানায় ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। পরে অবশ্য তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়। রাজীবের স্ত্রী সুজাতা দালাল বলেন, ‘কোনো নোটিস ছাড়াই পুলিশ ঘরে ঢুকে তল্লাশি চালায়। রাজীব বাড়িতে ঢুকতেই তাঁকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায়।’ এ বিষয়ে তৃণমূলের নির্বাচন কমিটি চেয়ারম্যান চঞ্চল দেবনাথ বলেন, ‘পুলিশ রাজীবকে যেভাবে থানায় নিয়ে এসেছে, তাতে ওঁর সম্মানহানি হয়েছে। আগামী ৪ তারিখ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কথা চলবে। কী কারণে ওঁকে নোটিস ছাড়া গ্রেপ্তার করা হল, তা এখনও আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়।’
  • Link to this news (বর্তমান)