অলকাভ নিয়োগী, নোয়াপাড়া: ঘড়ির কাঁটায় তখন বেলা পৌঁনে ৩টে। মাথার উপর খাঁ খাঁ করছে রোদ্দুর। ক্যান্টনমেন্টের এক ফালি সরু গলিতে তখনও প্রচারে ব্যস্ত তিনি। ভ্যাপসা গরম। ঘামে ভেজা শরীর। করজোড়ে বাড়ির সামনে গিয়ে বলছেন, ‘আমি আপনাদের প্রার্থী। আশীর্বাদ করবেন’। প্রবীণদের পা ছুঁয়ে প্রণামও করছেন। পাঞ্জাবির পকেট থেকে রুমাল বের করে কপালের ঘাম মুছে আবার এগিয়ে চলেছেন। তিনিই নোয়াপাড়া বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী তরুণ তুর্কি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। লড়াকু ছাত্রনেতা। ভোটের ময়দানে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ। গত বিধানসভা থেকে লোকসভা ভোট— ফলাফলের নিরিখে নোয়াপাড়ায় তৃণমূলের ‘জমি উর্বর’। তবুও ঘাসফুলের ফলন বাড়াতে দিনভর চষে বেড়াচ্ছেন তৃণাঙ্কুর। পাড়ার সরু গলির জন্য গাড়ি নয়। তিনি জোগাড় করেছেন সাইকেল। তাতে ব্লু-টুথ স্পিকার বসানো। থাকছে কর্ডলেস মাইক্রোফোন। টিং টিং বেল বাজিয়ে ঘুরছেন তিনি।
ভোট মানেই অঙ্ক। শাসক হোক বা বিরোধী। সেই অঙ্ক কষে সকলেই। তবে, তৃণমূলের কথায়, নোয়াপাড়ার অঙ্ক কষতে গিয়ে গেরুয়া শিবির ভিমরি খাচ্ছে। কেন? তৃণমূলের তৃণাঙ্কুরের বিরুদ্ধে নোয়াপাড়ায় এবার বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন অর্জুন সিং। ২০১৯ সালে অর্জুন সিং বারাকপুর লোকসভা থেকে জয়ী হয়েছিলেন। নোয়াপাড়া ছিল তাঁর কেন্দ্রেরই অধীনে। অথচ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ২৭ ভোটে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী মঞ্জু বসু। অর্জুনের প্রভাবই পড়েনি। গত লোকসভা নির্বাচনে অর্জুন সিং আবার প্রার্থী হন বারাকপুর লোকসভায়। তিনি তৃণমূলের পার্থ ভৌমিকের কাছে ৬৪ হাজার ভোটে গোহারা হন। গত লোকসভাতেও নোয়াপাড়ার মানুষ তৃণমূলকে ১১ হাজার ৮৫৯ অর্থাৎ প্রায় ১২ হাজার ভোটে লিড দিয়েছে। অর্জুনের কপালে কিছুই জোটেনি!
নোয়াপাড়ার সর্বত্র এখন গান বাজছে, ‘নোয়াপাড়ার ঘরের ছেলে আসছে তৃণাঙ্কুর’। ঘোষপাড়া রোডে একদল প্রৌঢ়ের জমজমাট গল্প চলছিল। কে হবেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক? একজন বলে উঠলেন, ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি করে নোয়াপাড়ার মানুষকে ফাঁদে ফেলা মুশকিল। এখানে ঘাসফুলের শক্ত মাটি। পদ্ম চাষ এত সহজ নয়। যদিও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং। জয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নোয়াপাড়ার মানুষ এবার পরিবর্তন চাইছেন। এখানে পরিবর্তন হবেই। তাই এবার নোয়াপাড়া থেকে আমিই জিতছি’। অন্যদিকে, প্রচারের ফাঁকে তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য বলেন, ‘দেখুন, এলাকার মানুষ অর্জুন সিংয়ের ইতিহাস জানেন। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের সঙ্গে রয়েছেন। নোয়াপাড়ার বাসিন্দারা শান্তি, সম্প্রীতির পক্ষে। তাঁরা বিভাজন চান না। আমি নিশ্চিত, তাঁরা আমাকেই আশীর্বাদ করবেন। আমিও নোয়াপাড়ার মানুষের সঙ্গেই থাকছি। তাঁরা যে ভালোবাসায় আপন করছেন, তাতে আমি আপ্লুত’। নিজস্ব চিত্র