গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাবড়ায় প্রচারে ঝড় তৃণমূল ও বিজেপির
বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চড়ছে প্রচারের পারদ। শুক্রবার হাবড়া বিধানসভায় সেই ছবিই স্পষ্ট। রাস্তায় মাইক, স্লোগান আর ঘাম ঝরানো প্রচারে ব্যস্ত প্রার্থী-সমর্থকরা। এদিন সকালে হাবড়া পুরসভার ১৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে জনসংযোগ করেন তৃণমূল প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু। সকাল থেকেই এলাকায় জমতে থাকে ভিড়। বিশেষ করে মহিলা কর্মীদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। বাড়ি বাড়ি যাওয়া, ছোটো ছোটো জমায়েত— সব মিলিয়ে শাসক শিবিরের প্রচারে ছিল ছন্দ। অন্যদিকে, বিধানসভা এলাকার কুমড়া-কাশীপুর অঞ্চলে মাকালতলা গ্রামে সাইকেলে চেপে জনসংযোগ করেন বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মণ্ডল। এলাকার ভাঙাচোরা রাস্তা, অর্ধেক কাটা গাছ, পরিকাঠামোর অভাব— এই সব ইস্যু তুলে ধরে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে খামতি রয়েছে।
প্রচারের ময়দানেই শুরু হয়েছে পালটা রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণে বিশ্বাসী নন। তবে বিজেপির বিরুদ্ধে মানুষকে হেনস্তার অভিযোগ তুলে তাঁর দাবি, মানুষ এর জবাব ভোটেই দেবে। সাম্প্রতিক মিছিলে মহিলাদের ভিড়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই উৎসাহই আমাদের পালে হাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। উন্নয়নই তাঁর মূল ভরসা বলেও জানান তিনি। পালটা বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মণ্ডলের বক্তব্য, বাস্তব পরিস্থিতিই শাসকদলের দাবিকে খণ্ডন করছে। তাঁর দাবি, এলাকায় রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে নানা পরিষেবার অভাব রয়েছে। ‘চাল চোর’ প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, হাবড়া বিধানসভায় বরাবরই শিক্ষিত প্রতিনিধিদের দেখা গিয়েছে। কখনও অধ্যাপক, কখনও ব্যাংককর্তা, কখনও বা শিক্ষক— এমন প্রার্থীরাই বিধায়ক হয়েছেন। এলাকায় ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ শিক্ষিত বলেই তাঁদের দাবি। স্বাভাবিকভাবেই এবারের ভোটে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়নের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার উল্লেখ রয়েছে। তা নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই চাপানউতোরের মাঝেই সামনে এসেছে এসআইআরের তথ্য। হাবড়ায় বিচারাধীন অবস্থায় নাম বাদ গিয়েছে ১৮ হাজার ৭৯১ জনের। চূড়ান্ত খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছেন আরও ৫ হাজার ৫৮৭ জন। সব মিলিয়ে ২৪ হাজারের বেশি নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।