• মা কালীর স্মরণাপন্ন বিজেপির রুদ্রপ্রসাদ, হেরোদের মাখাতে ভুসো জমাচ্ছেন ঋতব্রত
    বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, উলুবেড়িয়া: নিজের বাড়ির উঠোনে বসে আক্ষেপ করছিলেন শেখ সাইদুর রহমান। কংগ্রেসের দাপুটে নেতা। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক একসময় উলুবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর কথায়, ‘আমি তো এই এলাকায় চিরকালই কারও দাদা, কারও মামা, কাকা বা দাদু ছিলাম। কখন আমি মুসলিম হয়ে গেলাম, বুঝতেও পারলাম না। কংগ্রেস করেছি বলে কখনও কাউকে হিন্দু বা মুসলিমের চোখে দেখিনি। সেই সংস্কৃতিও ছিল না কখনও। আমি খ্রিস্টান মিশনারিতে পড়াশোনা করেছি। নিজেকেও কখনও মুসলিম হিসাবে ভাবিনি। এখন দিনকাল বদলেছে। আমি বাইরে বেরলে, কোথাও কোথাও আমাকে শুধুই মুসলিম হিসাবেই চিহ্নিত করা হয়। এর বাইরে যেন আমার আর কোনও পরিচয় নেই। এমনটা হয়নি কখনও। এ বড় দুঃসময়।’

    তৃণমূলের প্রবল হাওয়ায় কখনও জোড়াফুলে নাম লেখানোর কথা চিন্তা করেননি সাইদুর রহমান। তৃণমূলের ভুলত্রুটির সমালোচনাও করেন। তবু তাঁর কথা, ‘মানুষকে বলছি তৃণমূলকে ভোট দিতে। বিশেষত মুসলিমদের। তাঁদের বলছি, খারাপ ভালোর বিচার পরে করবে। আগে বাঁচো। এই ভয়ংকর দিনে বাঁচতে গেলে তৃণমূল ছাড়া গতি নেই। কোনও পীর বা ওয়াইসি এসে পাশে দাঁড়াবে না। এখন অস্তিত্বের লড়াই।’ সাইদুর রহমানের কথায়, সাত থেকে আট শতাংশ মুসলিম হয়তো অন্যত্র ভোট দেবেন। কিন্তু সিংহভাগই বাঁচার তাগিদে তৃণমূলকে বেছে নেবেন।

    উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্রে এবার তৃণমূল প্রার্থী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় গোড়া থেকেই প্রচারে ঝড় তুলেছেন। শ্রমিক নেতা হিসাবে পূর্ব পরিচিতি এই কেন্দ্রে তাঁকে বাড়তি সুবিধা করে দিয়েছে। বেলুনে সাজানো মাথা খোলা টোটোয় করে চষে ফেলছেন এলাকা। এমনই এক চৈত্রের আগুনঝরা বিকালে যখন নিমদিঘি পশ্চিমপাড়ায় ঢুকল তাঁকে নিয়ে শোভাযাত্রা, ততক্ষণে পিলপিল করে মানুষ জড়ো হয়েছেন ইয়ংস্টার ক্লাবের সামনে। মুসলিম অধ্যুষিত ঘিঞ্জি এই জায়গায় পথে নামলেন এলাকার মানুষ। ঋতব্রতবাবুকে ফিরিয়ে দিলেন প্রতি নমস্কার। দোয়ায় পূর্ণ হল ভোট প্রার্থনা। শোভাযাত্রা চলে যেতে, নামাজ সেরে আসা এলাকার এক প্রবীণ নাগরিককে ভোটের কথা বলতেই তিনি জানালেন, এলাকার মানুষ বিচক্ষণ। সামনের পুকুরের দিকে আঙুল তুলে বললেন, এটা তেমন সংস্কার হয়নি। তবে এই রাস্তাঘাট হয়েছে। আলো হয়েছে। এসব হিসাব কষেই ভোট হবে এবার।

    গতবার দল প্রার্থী না করায় গোঁসা করেছিলেন বিজেপি নেতা রুদ্রপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার দল তাঁকে এই বিধানসভা কেন্দ্রে টিকিট দিয়েছে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের পাশাপাশি প্রচারে এলাকা উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন তিনি। তালিকায় যেমন আছে গঙ্গার পাড়ের সৌন্দর্যায়ন, তেমনই আছে উলুবেড়িয়ায় আধুনিক মানের খেলার মাঠ তৈরি, বাউড়িয়া, রঘুনাথপুর, খলিসানি, চেঙ্গাইল, গঙ্গারামপুরের বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়া, উলুবেড়িয়া পুরসভায় জমির মিউটেশন, ট্রেড লাইসেন্সের খরচ কমানো প্রভৃতি। প্রচারে তাঁর ট্যাগলাইন ‘ইচ্ছে সবার রুদ্র এবার’। তবে প্রচারে হিন্দুয়ানার প্রলেপ দিতে খামতি রাখছেন না রুদ্রপ্রসাদবাবু। পায়ে পায়ে প্রচারে স্লোগান উঠছে, ‘জয় মা কালী।’ অন্যদিকে প্রচারে বেশ কিছুটা থাকা আইএসএফ প্রার্থী নাসির খানের সাফাই, ‘ওদের কাছে ঝান্ডা আছে, আমাদের কাছে এজেন্ডা আছে।’ প্রতি বাড়িতে মাথাপিছু চাকরির ব্যবস্থা করাই সেই এজেন্ডার অন্যতম উপকরণ। আর এসব দেখে মুচকি হাসছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বলছেন, দেওয়াল লিখতে যে কালো কালি, ভুষো কালি লাগছে,তার সবটা খরচ না করে, খানিকটা আলাদা করে জমিয়ে রাখতে বলেছি। ৪ মে হেরোদের মুখে মাখাতে কাজে লাগবে!
  • Link to this news (বর্তমান)