• ব্যবধান বাড়বে, চতুর্থবার জিততে আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় তৃণমূল প্রার্থী
    বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • সোহম কর, লক্ষ্মীকান্তপুর: দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র হল মন্দিরবাজার। মন্দিরবাজারের মন্দিরে নীল ষষ্ঠীর পুজোর সময় তিল ধারনের জায়গা থাকে না। লক্ষ্মীকান্তপুর থেকে সেই মন্দিরে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। শুধুই লোকের মাথা। স্থানীয়রা বলছিলেন, এবার আবার নীল পুজোকে ঘিরে ছোটো ছোটো ডিজে বক্স নিয়ে মিছিল বের হয়েছে। সেই মিছিল একদিনের। আর ভোটের প্রচারের মিছিল-পথসভার মেয়াদ প্রায় একমাস। মন্দিরবাজার এককালে সিপিএমের জায়গা ছিল। মাঝে ২০০১ সালে চৌধুরীমোহন জাটুয়া তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন এই আসন। যদিও পরের বছরই ফের লালঝান্ডার দখলে আসে এটি। তবে ২০১১ সাল থেকে এই কেন্দ্রের বিধায়ক তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা জয়দেব হালদার। এবারও তিনি প্রার্থী। তিনি বলছেন, ‘জয়ের ব্যবধান বেড়ে যাবে’।

    স্থানীয়রা এসআইআর বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখছেন না। বলা ভালো, তাঁদের চোখে এটা ‘হেনস্তা’। ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই কেন্দ্রে সিপিএমের ভোট ছিল ৩৯ শতাংশের মতো। বিজেপি তখন ৪-৫ শতাংশে ঘোরাফেরা করছে। ২০২১ সালে বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে আইএসএফ। সেবার মিত্রশক্তি হিসাবে প্রার্থী দেয় তারা। ভোট পায় ১৩ শতাংশ। বিজেপি উঠে আসে ৩৬ শতাংশে। তৃণমূলের ভোটও ২০১৬ সালের তুলনায় ৪ শতাংশ কমে যায়। এই বছরও সেই কেন্দ্রে লড়ছে আইএসএফ। তবে তৃণমূল প্রার্থী বলছেন, ‘বিজেপির সঙ্গেই লড়াই হবে। বিজেপি বাংলা বিরোধী। গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ১০০ দিনের কাজ বন্ধ। বাংলাকে টাকা দিচ্ছে না। বাংলার সংস্কৃতি ওরা জানে না। জনপ্রতিনিধির কাজ ধর্ম নিয়ে নয়। বাংলা আবার দিদিকেই নিয়ে আসবে।’ ওদিকে, এ বছর বিজেপি তাদের প্রার্থী পরিবর্তন করেছে। এবার প্রার্থী হয়েছেন মল্লিকা পাইক। তিনি একটি বেসরকারি স্কুলে পড়ান। তিনিও বলছেন, ‘জিতব!’ পাশাপাশি বলেন, ‘লক্ষ্মীকান্তপুরে জল জমার সমস্যা আছে। বেসরকারি স্কুলের প্রভাব বাড়ছে। তাই মানুষ এবার বিজেপিকেই ভোট দেবেন।’ এর পাশাপাশি হাসপাতাল, মাধবপুরে রেল গেট, জল নিকাশি সহ একাধিক বিষয়কে ইস্যু করেছেন তিনি। সকলের মতো আইএসএফ প্রার্থী অশোককুমার গায়েন বলছেন, ‘১০০ ভাগ নিশ্চিত, আমিই জিতব’। তবে তৃণমূলের মতো বিজেপিও এই কেন্দ্রে মনে করছে লড়াই দ্বিমুখী।

    জয়দেববাবু চতুর্থবারের জন্য জিতে আসার পরিকল্পনা সেরে ফেলেছেন। বলছিলেন, ‘কিছু এলাকায় নিকাশির সমস্যা রয়েছে। সেসব ঠিক করা হবে। দক্ষিণ বিষ্ণুপুর মহাশ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি করা হবে। মন্দিরবাজার থেকে কলকাতা পর্যন্ত বাস চালু করার ইচ্ছা আছে। কেন্দ্র পরিস্রুত জল সরবরাহের জন্য টাকা দিচ্ছে না। আগামী দিনে এই বিষয়টিও বাস্তবায়িত করতে হবে।’ অর্থাত্ কী করেছেন এবং কী করবেন, সেই বিষয়ে স্পষ্ট মত রয়েছে জয়দেববাবুর। আর স্থানীয়রা বলছেন, ইভিএমেই যা বলার বলব। তবে রাজনীতির আলোচনা এসআইআরের দিকে এগলেই স্থানীয়রা গজগজ করে উঠছেন ভিতর ভিতরে। যেন কথার মিছিল আটকে থাকছে মন্দিরবাজারের মানুষের মনে।
  • Link to this news (বর্তমান)