নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: একদিনে তিন সভা থেকে একসুরে বিজেপিকে খোলা চ্যালেঞ্জ তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বললেন, খেলা আপনারা শুরু করেছেন। শেষ করবে তৃণমূল।
ভোট এলেই ইডি, সিবিআই, ইমকাম ট্যাক্সের মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা দেখা যায়। বাংলায় ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সেইসঙ্গে এবার নির্বাচন কমিশন বিজেপির সহকারী সংস্থা হিসাবে কাজ করছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বিজেপিকে আরো জোরালভাবে আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার সবং, হিঙ্গলগঞ্জ ও রায়দিঘিতে জনসভা করেন অভিষেক। তিন সভা থেকেই অভিষেকের বক্তব্য, ইডি, সিবিআই ও নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়েও ভোটে জিততে পারবে না বিজেপি। ইডি, সিবিআই, কমিশন ভোট দেবে না। ভোট দেবেন বাংলার মানুষ। আর বাংলার মানুষের আশীর্বাদে বিপুল ভোটে জিতবে তৃণমূল।
কয়েকবছর ধরেই বাংলার মানুষের উপর লাগাতার বঞ্চনা কেন্দ্রের বিজেপি সরকার করছে বলে অভিযোগ। কেন্দ্রের কাছে বাংলার প্রাপ্য ২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। তৃণমূলের আরো অভিযোগ, বিজেপির কথায় পরিচালিত জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) অপরিকল্পিত এসআইআর আমদানি করে বাংলার মানুষের উপর নির্যাতন চালিয়েছে। অভিষেক বলেন, বাংলার মানুষের যে বঞ্চনা, অত্যাচার, নির্যাতন বিজেপি চালিয়েছে, তার জবাব বিজেপি এবার পাবে। অনেক অত্যাচার করেছে। সব লেখা আছে। শেষ দেখে ছাড়ব। এবার আর ছাড় নয়। অভিষেকের হুংকার, এবার আর ছাড় নয়। আমি এত উদার নই। তৃণমূলের সৌজন্য, দুর্বলতা নয়। আগামী দিনে কড়ায়গন্ডায় জবাব হবে।
মূলত তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কথামতো সব এজেন্সি এবং ইসিআই কাজ করছে। জোর-জবরদস্তি করে বাংলায় ভোটে জেতার যে ছক বিজেপি কষেছে বা চক্রান্ত করছে, তার জবাব বিজেপি পাবে বলেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ অভিষেক। বলেছেন, অমিতবাবু! খেলা শেষ করবে তৃণমূল। আর ৪ মে বেলা ১২টার পর বিজেপি নেতাদের মুখটা দেখবেন সকলে। ৪ তারিখের পর বাংলার মানুষের ক্ষমতা দেখাব। বিজেপির গুন্ডারা এসে আমাদের ধমকাচ্ছে! এর জবাব ওরা পাবে ৪ মে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উন্নয়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বাংলার মানুষের কাছে ভোট চেয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। অভিষেকের কথায়, এখন অনেক বিজেপি নেতা আসছেন। কিন্তু নির্বাচনের পরে তো ওঁরা আর আসবেন না। দোকানদার ব্যাগ-বস্তা নিয়ে বাংলা থেকে পালাবেন। নির্বাচনের পরে ওঁরা ব্যাগ নিয়ে টাটা বাই বাই হয়ে যাবেন। বিজেপির বাংলার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। ভোটের পর বিজেপির দোকানটাই হাওয়া হয়ে যাবে। তাই বহিরাগতদের বাংলাছাড়া করুন।
এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপটটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটাও প্রকাশ্য সভায় ব্যক্ত করেছেন অভিষেক। তিনি মনে করেন, এটা তৃণমূলকে জেতানোর নির্বাচন নয়, যাঁরা দিল্লি-গুজরাত থেকে এসে আমাদের ঝমকাচ্ছেন, চমকাচ্ছেন, তাঁদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করার নির্বাচন। আর এখন বিজেপি নেতারা দাপাদাপি করছেন। ৪ তারিখ বেলা ১২টার