মমতা: জেসপের মালিকের বাড়িই ছিল বিজেপি নেতাদের বৈঠকখানা, অধিগ্রহণ বিল আটকে রয়েছে ১০ বছর
বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ভোটের বাংলায় শিল্পায়নের স্বপ্ন ফেরি করছে গেরুয়া শিবির। বলছে, বাংলা দখলে এলেই কর্মসংস্থানের জোয়ার আসবে। এই প্রতিশ্রুতি যে কত বড়ো ভাঁওতা, তা দমদমের বন্ধ জেশপ কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, জেসপ ও ডানলপ নিশ্চয়ই আপনারা ভুলে যাননি। ২০১৬ সালে দু’বার আমরা বিধানসভায় অধিগ্রহণ বিল পাশ করেছি। বলেছি, এটা আমাদের হাতে দাও। তারা আজ পর্যন্ত তা করেনি। কারণ বিজেপির নেতারা মালিকের বাড়িতে গিয়ে থাকতেন। বিজেপির ওটা সবচেয়ে বড়ো বৈঠকখানা ছিল। তাই মালিকপক্ষ শ্রমিকদের দিকে তাকায়নি।
শুক্রবার দমদম সেন্ট্রাল জেল গ্রাউন্ডের সভা থেকে শিল্পায়ন নিয়ে বিজেপিকে তীব্রভাষায় আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে আমরা বিল পাশ করে পাঠানো সত্ত্বেও কেন কেন্দ্র পাশ করছে না? কেন ওই বিল আটকে রাখা হয়েছে? প্রশ্ন করুন বিজেপিকে। আমরা মাস্টার রোলে থাকা শ্রমিকদের ২০১৬ সাল থেকে মাসে ১০ হাজার টাকা করে দিচ্ছি। এছাড়া চিকিৎসার জন্য টাকা দিই। আর আপনারা কারখানা খুলতে দেন না। ভাষণ দিয়ে বলছেন, সব শূন্যপদ পূরণ করে দেবেন। রেলে গ্যাংম্যান নিয়োগ করেননি কেন? সিভিল অ্যাভিয়েশন বিক্রি করলেন কেন? এয়ারপোর্ট বিক্রি করে দিয়েছেন কেন? গোটা দেশ বিক্রি করে দিচ্ছেন আপনারা। এলআইসির শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে। কাল টাকা পাবেন কি না, কোনও নিশ্চয়তা নেই। তিনি আরও বলেন, কাশীপুর গান অ্যান্ড শেল, চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ আজ ধুঁকছে। বিজেপি মাইক ফুঁকছে, আর এজেন্সি দিয়ে রেইড করাচ্ছে। ওরা ভাবছে, আমরা বড়ো কেউকেটা হয়ে গিয়েছি। কাল যখন কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকবে না, এই রেইডগুলি আপনাদের বাড়িতেও হবে। তখন বুঝবেন। তিনি স্মৃতি আউড়ে বলেন, আমার মনে পড়ছে দক্ষিণেশ্বর-নোয়াপাড়া রেল লাইন আমি করে দিয়ে গিয়েছিলাম। টাকাও আমি দিয়ে গিয়েছিলাম। বিজেপি ক্ষমতায় এসে উদ্বোধন করেছে মাত্র। তিনি এলাকার উন্নয়ন নিয়ে বলেন, আপনারা জানেন পলতা ট্যাংক থেকে শুরু করে রামকৃষ্ণ সেতু, নাগেরবাজার উড়ালপুল আমরা করে দিয়েছি। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে থেকে শুরু করে ড্রেনেজ সিস্টেম, পানীয় জল, আলোর ব্যবস্থা হয়েছে। তবে ওঁরা এই উন্নয়ন খালি চোখে দেখতে পান না।