• সুপ্রিম নির্দেশের পরও ধোঁয়াশায় ডিলিটেড ভোটাররা! ঢুকতেই পারলেন না ট্রাইবুনালে
    বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিচারাধীন তালিকা থেকে ‘ডিলেটেড’ ভোটারদের ভাগ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু তারপরও ধোঁয়াশা কাটছে না। ট্রাইবুনালে কীভাবে আবেদনের নিষ্পত্তি হবে তা নিয়ে শুক্রবার পর্যন্ত কোনো ‘এসওপি’ প্রকাশ্যে আসেনি। কত সংখ্যক ভোটারের আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে তাও স্পষ্ট নয়। 

    এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এদিন সকাল থেকে বহু মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন জোকায় ট্রাইবুনাল দপ্তরে। তবে কোনো আবেদনকারীকে এদিন ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি আইনজীবীরাও ট্রাইবুনালের ভিতরে প্রবেশ করতে পারেননি বলে খবর। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে সূদূর বহরমপুর থেকে সকাল সকাল ট্রাইবুনালে এসেছিলেন কোয়েল ঠাকুর, অজয় পালরা। কিন্তু সকলেই হতাশ। কেউই ট্রাইবুনালের ধারেকাছে ঘেঁষতে পারেননি। তাঁদের শুনানি আদৌ করা হবে কি না, তার কিছুই জানেন না তাঁরা। এদিকে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, ট্রাইবুনাল কীভাবে কাজ করছে তা কমিশন বা সিইও অফিসের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। এখনো পর্যন্ত ঠিক কতজন ভোটারের নিষ্পত্তি হয়েছে, তাও জানে না কমিশন। কত নামের নিষ্পত্তি হয়েছে তা কমিশনকেই জানাতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু মনোজ বলেছেন, ‘প্রথমে একটি ড্যাশবোর্ড তৈরি করতে হবে। ড্যাশবোর্ড এখনো তৈরি হয়নি।’ পাশাপাশি তিনি জানান, ‘ট্রাইবুনালের এসওপি নিয়ে কোনো তথ্য এখনো কমিশনের কাছে আসেনি।’  

    কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ‘বিচারাধীন’ তালিকা ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনের নাম বাদ পড়েছে। ট্রাইবুনালে আবেদন জমা পড়েছে ৩৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৭৮টি। অর্থাৎ ‘রিভাইজড ইলেক্টোরাল রোলে’ নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের একাংশও আবেদন জানিয়েছেন। এবার ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতি এই কদিনে কত ভোটারের নামের নিষ্পত্তি করতে পারবেন, সেটাই মূল প্রশ্ন। অন্যদিকে, সুপ্রিম নির্দেশের পর ট্রাইবুনালে দ্রুত নিষ্পত্তির আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন গোলাম মহিউদ্দিন। সেই মামলার নির্দেশে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানিয়েছেন, এই ব্যাপারে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে ট্রাইবুনাল। 
  • Link to this news (বর্তমান)