• সস্তার গেরুয়া ছকে ফের সক্রিয় এজেন্সি, ভোটের মুখে দেবাশিস কুমারের বাড়ি, তৃণমূলের পার্টি অফিসেও আয়কর হানা
    বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটার তালিকা থেকে বাদ ৯১ লক্ষ মানুষ। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি, অ্যাডজুডিকেশনের মতো ‘নয়া বিধি’ও প্রয়োগ হয়েছে। পদ্মপার্টির পোস্টার বয় নরেন্দ্র মোদি, সেকেন্ড ইন কমান্ড অমিত শাহ, বুলডোজার রাজনীতির প্রবর্তক যোগী আদিত্যনাথ থেকে শুরু করে তামাম দেশের কোনো নেতা-মন্ত্রী বাকি নেই মমতা হটাও অভিযানে। তবুও হাওয়াই চটি, আর সাদা শাড়ির মহিলাকে দমানো যাচ্ছে না। ধুতি পরে, হাতে মাছ ঝুলিয়ে জয় মা কালী আর জয় মা দুর্গা বলেও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। বরং রোজই দুরন্ত খেলা হওয়ার চ্যালেঞ্জ উড়ে আসছে প্রতিপক্ষ শিবির থেকে। ‘সাম’, ‘দাম’, ‘ভেদ’ প্রয়োগ করাও শেষ, এবার বাকি ‘দণ্ড’ কার্যকর করতে অতিসক্রিয় করা হল সব কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে। ইডি’কে দিয়ে একদফা ‘জুজু’ দেখানো সম্পূর্ণ। বাকি ছিল আয়কর দপ্তর! তাকেও বাংলার ভোট ময়দানে অবতরণ করানো হল শুক্রবার সকালে। 

    টার্গেট রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার, তৃণমূল নেতা কুমার সাহা এবং ভবানীপুর কেন্দ্রে জোড়াফুল শিবিরের প্রতিনিধি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবক তথা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান তথা আয়কর আইনজীবী মিরাজ শাহ। আয়কর হানা হয়েছে রাসবিহারীর তৃণমূল পার্টি অফিস তথা দেবাশিস কুমারের নির্বাচনি দপ্তরেও। এবং রাসবিহারীর এই তৃণমূল প্রার্থীর শ্বশুরবাড়িতে। বৈশাখের তীব্র দাবদাহের মধ্যে যে মহিলা গেরুয়া শিবিরের তাবড় রথী-মহারথীদের ঠান্ডা ঘর থেকে বের করে ময়দানে নামিয়ে এনেছেন, তাঁর ভোট পরিচালকরাও যে পদ্মপার্টির টার্গেটে, এদিনের আয়কর অভিযান তা স্পষ্ট করেছে বলে রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য। কারণ শাসকদলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীর আয়কর রিটার্ন জমা পড়ত তাঁর মাধ্যমেই। কয়েক ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ ও খানাতল্লাশির পর তৃণমূল নেতা কুমার সাহা এবং মিরাজ শাহের এলগিন রোডের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান আয়কর আধিকারিকরা। আর দেবাশিস কুমারের মনোহর পুকুরের বাড়িতে থেকে আয়কর দপ্তরের আধিকারিকরা বেরন রাত ৯টা নাগাদ। ১৬ ঘণ্টা পর। সারাদিন বাড়ির বাইরে তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কয়েকশো অনুগামী। বাড়ানো হয়েছে আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানের সংখ্যাও। 

    কেন এই অভিযান? আয়করের দাবি, জোর করে জমি দখল করিয়ে বিপুল নগদ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে দেবাশিস কুমারের বিরুদ্ধে। আয়কর না দেওয়া এই অর্থ রিয়েল এস্টেট কারবারে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এদিন কয়েকটি রিয়েল এস্টেট সংস্থার দপ্তরে হানা দিয়েছিল আয়কর। তাদের দাবি, ওই অর্থ খাটছে এই সংস্থাগুলিতে। এদিনই আবার ইডি সল্টলেক ও মিডলটন স্ট্রিটে এহেন দু’টি রিয়েল এস্টেট সংস্থার ডিরেক্টরদের বাড়ি ও দপ্তরে হানা দেয়। নির্বাচনের মুখে এহেন ‘সস্তার চেনা গেরুয়া ছকে’ বেজায় ক্ষুব্ধ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘মানুষের ভোটে জেতার ক্ষমতা নেই বিজেপির। তাই এজেন্সিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। নির্লজ্জ বেহায়া একটা রাজনৈতিক দল। সামনাসামনি লড়াই করতে পারে না। ভীতু-কাপুরুষ। এখন এসব করে বেড়াচ্ছে।’ মমতার হুংকার—যাই করা হোক না কেন, আমাদের সরকারই আবার ক্ষমতায় আসছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)