• উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ডে রেল, ECL-এর CSR? বিতর্কে পদ্ম-প্রার্থী
    এই সময় | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, আসানসোল: একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজকে নিজেদের এলাকার উন্নয়ন হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগে বিজেপির বিদায়ী বিধায়কদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, এতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিদায়ী পদ্ম-বিধায়করা। তাঁদের পাল্টা দাবি, তাঁদের তত্ত্বাবধানেই ওই সব উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে উপযুক্ত ব্যাখ্যাও দিতে প্রস্তুত তাঁরা।

    বিদায়ী বিধায়করা, যাঁরা এ বার প্রার্থীও, নিজেদের বিধানসভা এলাকার গত পাঁচ বছরের উন্নয়নমূলক কাজের হিসেব তুলে ধরে প্রচারে জোর দিচ্ছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিলি করা হচ্ছে 'রিপোর্ট কার্ড'। অভিযোগ, আসানসোল দক্ষিণ ও কুলটির বিদায়ী পদ্ম-বিধায়কদের রিপোর্ট কার্ডে এমন বহু কাজের উল্লেখ রয়েছে, যেগুলি মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা যেমন ইস্কো, রেল, ইসিএল ও বিসিসিএলের সিএসআর (কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি) বা কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অর্থে সম্পন্ন হয়েছে।

    কুলটির বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক অজয় পোদ্দারের রিপোর্ট কার্ডে কুলটি রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সংস্কার, বরাকর স্টেশনে লিফট চালু, বিভিন্ন স্টেশনে আলোর ব্যবস্থা, একাধিক ট্রেনের স্টপেজ বৃদ্ধি, বরাকরের সিদ্ধেশ্বর মন্দিরের সংস্কার, ইসিএলের তহবিলে শ্মশানঘাট নির্মাণ ও রাস্তা তৈরি, বিসিসিএলের অর্থে রাস্তা নির্মাণের মতো কাজের উল্লে রয়েছে। যদিও অজয় পোদ্দার দানি করেছেন, গত পাঁচ বছরে 'বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিল'-এর প্রায় তিন কোটি টাকা তিনি এলাকার উন্নয়নে ব্যয় করেছেন।

    অন্য দিকে, আসানসোল দক্ষিণের বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পলের রিপোর্ট কার্ডেও বার্নপুর রেলস্টেশনে লিফট, মহিলা শৌচাগার ও সাইকেল স্ট্যান্ড নির্মাণ কোভিড পরবর্তী সময়ে বন্ধ থাকন দক্ষিণ-পূর্ব রেলের একাধিক ট্রেন চালু দামোদর স্টেশন সংলগ্ন আন্ডারপাস বরথোলে ওভারব্রিজ নির্মাণ, ইস্কোর সামাজিক উন্নয়ন তহবিলের অমে শ্যামডিহি, নাকরাসোতা, কালাঝড়িয়া ও কাকড়ডাঙায় বিভিন্ন নির্মাণকাজ এব বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সহায়ক সামগ্রী বিতরণের মতো প্রকল্পগুলির উল্লেখ রয়েছে। তিনিও দাবি করেছেন বিধায়ক তহবিল থেকে প্রায় ২ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

    এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি তথা পাণ্ডবেশ্বরের প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী অভিযোগ করে বলেন, 'বিজেপির বিধায়করা নিজেরা তেমন কোনও কাজ করেননি তাই অন্য সংস্থার কাজ নিজেদের বলে প্রচার করছেন।' তিনি জানান, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হবে।

    বিজেপি বিধায়ক অজয় পোদ্দার ৩ অগ্নিমিত্রা পল দাবি করেন, এলাকার স্বার্থে তাঁদের উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে দিয়ে এই কাজগুলি করানো হয়েছে। তাই সেগুলি রিপোর্ট কার্ডে উল্লেখ করা হয়েছে এব এতে কোনও অনিয়ম হয়নি।

  • Link to this news (এই সময়)