এই সময়, হাওড়া: ভোটের মুখে হাওড়া শহরে চোরের উপদ্রব ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করে চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় চিন্তায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দাসনগর, কদমতলা থেকে শুরু করে ডোমজুড় ও পার্বতীপুর সংলগ্ন এলাকাতেও একাধিক চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী।
সম্প্রতি এক গৃহবধূর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করা সিসিটিভি ফুটেজ থেকে এরকমই একটি ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। দেবদত্তা মুখোপাধ্যায় ঘোষ নামে ওই গৃহবধূর দাবি, পয়লা বৈশাখের দুপুরে তিনি বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিলেন। তখন তাঁর বাবা বাড়িতে একাই ছিলেন। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ পেয়ে তিনি বাইরে এসে দেখেন, এক মহিলা ও একটি কিশোরী খাবার চাইছে। বিষয়টি প্রথমে স্বাভাবিক মনে হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা সেখান থেকে সরে যায়। পরবর্তীতে ঘরে ফিরে তিনি দেখেন, তাঁর স্মার্টফোনটি খোয়া গিয়েছে। এরপরে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পরিবারের সন্দেহ হয়, ঘটনাস্থলে ওই দু’জন ছাড়াও আরও একজন ছিল। অর্থাৎ, তিনজনের একটি দল এই চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। হাওড়ার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা তাঁদের নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে শুরু করেন।
সুরঞ্জনা বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক বাসিন্দা জানান, একই কায়দায় তাঁর বাড়ি থেকে সিলিন্ডার, মিক্সার এবং ইন্ডাকশন ওভেন চুরি করে নিয়ে গিয়েছে চোরেরা।
ডোমজুড়ের বাসিন্দা পায়েল ঘোষ আরও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, কয়েকদিন আগে তাঁদের এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি সকালে মধু বিক্রির অজুহাতে বাড়ি বাড়ি য়ায়। সেই সময়ে তারা এলাকা ও বাড়ির আশপাশ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে। এরপরে রাতের অন্ধকারে চার থেকে পাঁচজনের একটি দল এসে বাড়ি থেকে জিনিসপত্র চুরি করে। পায়েল ঘোষের কথায়, ‘বাড়ির ঠাকুরের সমস্ত সোনার ও রুপোর জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এই ধরনের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, চোরেরা দিনের বেলায় সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য কখন খাবার চেয়ে খায়, কখনও আবার তারা জিনিসপত্র বিক্রি করে। এ সব বলে তারা বাড়িতে ঢুকে পড়ছে। এরপরে সুযোগ বুঝে তারা বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে নেয়। সেই মতো সুবিধাজনক সময়ে তারা চুরি করতে আসছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই ধরনের ঘটনার কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া পোস্ট এবং অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ দিকে এই ঘটনা জানাজানি হতেই হাওড়া শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো, অতিরিক্ত লক ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে। পুলিশের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হলেও এলাকার বাসিন্দারা চাইছেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।