• ৫৮ বছর বয়সেও ফিট, জয়ের ধারা বজায়ে সাইকেলেই সওয়ার প্রতিভারানি
    এই সময় | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • সুমন ঘোষ, নারায়ণগড়

    ৫৮ বছর বয়সেও তিনি দিব্যি ‘ফিট’। কখনও পায়ে হেঁটে, কখনও সাইকেলে, কখনও আবার গাড়িতে ছুটে বেড়াচ্ছেন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত। লক্ষ্য একটাই— জয়ের ধারা অব্যাহত রাখা। কারণ, এ বার যে লড়াইটা একটু কঠিন, তা একবাক্যে স্বীকার করে নিচ্ছেন সকলে। তাই আত্মতুষ্টির কোনও জায়গাই রাখছেন‌ না নারায়ণগড়ের তৃণমূল প্রার্থী প্রতিভারানি মাইতি।

    সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা মিটিং, মিছিল, পথসভা কিংবা কর্মী বৈঠক করে চলেছেন। আত্মতুষ্টি না থাকলেও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই প্রতিভা বলছেন, ‘মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নও দেখছেন। অন্যদিকে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ধর্মীয় বিভাজনের ভয়াবহতাও কারও অজানা নয়। তাই সকলে শান্তিতে থাকতেই তৃণমূলকে বেছে নিতে চাইছেন।’

    প্রতিভার আদি বাড়ি পিংলার ধনেশ্বরপুর। তবে বিয়ের পরে চলে আসেন নারায়ণগড়ের মদনমোহন চকে। কারণ, শ্বশুরমশাই প্রয়াত সতীশচন্দ্র মাইতি মদনমোহনচক চৌধুরী ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক ছিলেন। সেখানেই প্রয়াত স্বামী প্রশান্ত মাইতির ছিল ওষুধের কারবার। সবং সজনীকান্ত মহাবিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে ছাত্র পরিষদের প্রতি আকর্ষণ থাকায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। রাজনীতিতে হাতেখড়ি ওই কলেজ জীবনেই।

    সংসারে ঢুকে আর রাজনীতির আঙিনায় পা রাখা হয়নি বেশ কয়েক বছর। তবে তৃণমূলের জন্মের পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেশ ভালো লাগত। তাঁর লড়াকু মনোভাব কোথাও যেন মনের গভীরে ঢুকে গিয়েছিল। আর তাতে ইন্ধন দেয় সিপিএমের অত্যাচার। ২০১৩-র পঞ্চায়েত নির্বাচনে পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী হন প্রতিভা। জয়ীও হন। ২০১৮-য় জেলা পরিষদের আসনেও জয়ী হয়ে শিশু ও নারী কল্যাণ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ হন।

    এক সময়ে নারায়ণগড়ের নারমা অঞ্চলের মহিলা সভানেত্রী থেকে নারায়ণগড় ব্লক মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীও হয়েছিলেন। আর ২০২৩-এ জেলা পরিষদ আসনে জয়ী হয়ে সভাধিপতি। জেলার উন্নয়নেও তাঁর গুরুত্ব রয়েছে। সেই উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই এ বার নারায়ণগড় বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের বড় ময়দানে পা রেখেছেন।

    তবে সে মাঠে কাঁটাও রয়েছে। এ বার নারায়ণগড়ের বিদায়ী বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্টকে টিকিট দেয়নি দল। ফলে তিনি প্রচারে যোগ দেননি। যদিও সূর্যের দাবি, ‘৮০ শতাংশ কাজ তো সেরেই রেখেছি। জয়ের পথ মসৃণই রয়েছে।’ আর প্রতিভা বলছেন, ‘আমি ওঁকে সিনিয়র নেতা হিসেবে মানি। ওঁর বাড়িতেও গিয়েছি।’

    নারায়ণগড়ে তৃণমূলের মধ্যে গোষ্ঠীকোন্দল যে ছিল না, তা নয়। তবে কোন্দল এড়াতে প্রথমেই তিনি সব পক্ষের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সবাইকে বোঝাতে পেরেছেন, সবার আগে দল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই ভুললে চলবে না। প্রতিভা বলেন, ‘সবাই সাহায্য করছেন। সেই জন্যই তো কখনও সাইকেলে, কখনও হেঁটে প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছি।’

    কিন্তু গত বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ২৪২১ ভোটে বিজেপিকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। এ বার লড়াইটা কি কঠিন হবে না? হাসিমুখে প্রতিভা বলছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যিনি প্রার্থী হয়েছেন তিনি এক সময়ে তৃণমূল থেকে অনেক সুবিধা নিয়েছেন। আর এখন তৃণমূলের বিরুদ্ধে কুৎসা করছেন। যা মানুষ ভালো ভাবে নিচ্ছেন না। তা ছাড়াও সভাধিপতি হিসেবে আমার কাজ দেখেছেন মানুষ। তাঁরা জানেন, আমি জিতলে আরও উন্নয়ন হবে।’

    আর বিজেপির রমাপ্রসাদ গিরি বলেন, ‘উনি সভাধিপতি থেকে কোনও কাজই করতে পারেননি। সেই জবাব এ বার মানুষ দেবেন।

  • Link to this news (এই সময়)