ভারতের প্রথম ট্রেন ১৮৫৩ সালে মুম্বইতে চললেও, আসলে তা চলার কথা ছিল কলকাতায়। ব্রিটিশ রাজের রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও কেন কলকাতা পিছিয়ে পড়ল, তার পিছনে রয়েছে সিনেমাকেও হার মানানো একগুচ্ছ অদ্ভুত ঘটনা।
সবচেয়ে বড় বিপত্তি ঘটেছিল সমুদ্রপথে। ইংল্যান্ড থেকে কলকাতায় ট্রেনের কামরা নিয়ে আসার সময় ‘এইচএমএস গুডউইন’ নামের জাহাজটি হুগলি নদীর মোহনায় ডুবে যায়। ফলে হাতের কাছে রেললাইন থাকলেও বসার কোচ ছিল না। বাধ্য হয়ে স্থানীয় ভাবে কামরা তৈরির কাজ শুরু হয়।
এর থেকেও অবাক করা বিষয় ছিল ট্রেনের ইঞ্জিনের ঘটনা। যে জাহাজে করে কলকাতায় ইঞ্জিন আসার কথা ছিল, সেই জাহাজটি পথ ভুল করে ভারত ছেড়ে চলে যায় সুদূর অস্ট্রেলিয়ায়! সেই ইঞ্জিন যখন অস্ট্রেলিয়া ঘুরে কলকাতায় পৌঁছল, ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছে অনেক। বাজি মেরে দেয় মুম্বই।
শুধু জাহাজ নয়, ছিল আরও কিছু বাধা। রেলপথ তৈরির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ফরাসি শাসনভুক্ত চন্দননগর। সেখান দিয়ে লাইন নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। এ ছাড়া সেই সময় লাইনের ধারে বাঘের উপদ্রব এবং হাতিদের টেলিগ্রামের খুঁটি উপড়ে ফেলার মতো আজব সব সমস্যাও কলকাতার রেলযাত্রার স্বপ্নকে পিছিয়ে দেয়।
শেষ পর্যন্ত মুম্বইয়ের ঠিক এক বছর পর, ১৮৫৪ সালের ১৫ আগস্ট হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত প্রথম ট্রেন চলে। আজ ভারতীয় রেল বিশ্বের অন্যতম বড় নেটওয়ার্ক হলেও, ইতিহাসের সেই ‘ভুল বাঁক’ আর ‘জাহাজডুবি’ না হলে ভারতের প্রথম ট্রেনের তকমা হয়তো কলকাতার কপালেই জুটত।