লুকিয়ে-চুরিয়ে পর্নোগ্রাফি (Porn) দেখার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। কিশোর থেকে প্রাপ্তবয়স্ক, এমনকি মধ্যবয়সিরাও একঘেয়েমি বা মানসিক চাপ কাটাতে নীল ছবিতে আশ্রয় খোঁজেন। কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট পেশার মানুষের ক্ষেত্রে কি এই অভ্যাসের রকমফের হয়? শনিবার ‘মহিলা সংরক্ষণ ও সীমানা পুনর্বিন্যাস বিল ২০২৬’ নিয়ে আলোচনার সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের দিকে আঙুল তুললেন বিহারের পূর্ণিয়ার নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব (Pappu Yadav)। তাঁর অভিযোগ, ‘রাজনীতিবিদরাই পর্নোগ্রাফিতে সবচেয়ে বেশি আসক্ত।’ শুধু তাই নয়, যৌন হেনস্থার মামলাও তাঁদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি রয়েছে বলে দাবি তাঁর।
আমজনতার ভোটে জিতে সংসদ বা বিধানসভায় যান সাংসদ, বিধায়করা। আইন প্রণয়ন করেন। কিন্তু তাঁদের নৈতিক অবস্থান নড়বড়ে হলে দেশের ভিতও টলমল করবে বলে দাবি পাপ্পুর। তাঁর অভিযোগ, ‘দেশে সবচেয়ে বেশি পর্নোগ্রাফি দেখেন রাজনীতিবিদরাই।’ পাপ্পু এই কথা বলতেই লোকসভায় ‘লজ্জা’, ‘লজ্জা’ স্লোগান ওঠে। টেবিল চাপড়াতে শুরু করেন বিরোধী দলের সাংসদরা। উল্লেখ্য, কর্নাটক, বিহার, ত্রিপুরা বিধানসভায় পর্নোগ্রাফি দেখতে গিয়ে ধরা পড়ার মতো নিন্দনীয় ঘটনা অতীতে ঘটেছে। তবে লোকসভা বা রাজ্যসভায় এমন ঘটনা কবে ঘটেছে তা মনে করতে পারছেন না অনেকেই।
রীতিমতো পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘৭৫৫ জন সাংসদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্যে ১৫৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিটও দাখিল হয়েছে।’ পাপ্পুর দাবি, যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছেন রাজনীতিবিদরা। তার পরেই আছেন ধর্মগুরু এবং সরকারি আধিকারিকরা। পাপ্পুর কথায়, ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে।’
পাশাপাশি লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিলের তীব্র বিরোধিতা করেন পাপ্পু। তাঁর দাবি, পিছিয়ে পড়া ও সংখ্যালঘু শ্রেণির স্বার্থ উপেক্ষা করে বিল আনার চেষ্টা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ওবিসি, ইবিসি, দলিত, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের জন্য পৃথক সংরক্ষণের দাবিও তোলেন তিনি। সাবিত্রীবাই ফুলের উদাহরণ টেনে পাপ্পু বলেন, ‘শুধু সংরক্ষণ দিলে হবে না। সমাজের গভীরে থাকা বৈষম্য দূর করতে হবে।’ নির্দল সাংসদের সাফ কথা, ‘সিনেমা, মিডিয়া এবং ফ্যাশন জগতেও ৮০ শতাংশ মহিলা যৌন হেনস্থার শিকার হন। সেই নিয়েও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।’
পাপ্পু যাদবের এই মন্তব্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেছেন। তাঁরা বলছেন, ‘সাংসদ কোনও প্রমাণ দেননি। শুধু একের পর এক অভিযোগ করে গিয়েছেন।’ অবশ্য পাপ্পু কোনও নাম নেননি। তিনি কোথা থেকে পরিসংখ্যান পেশ করছেন, জানাননি তাও। তবে অনেকের দাবি, সাংসদের এই মন্তব্য অস্বস্তিকর হলেও বাস্তব। শুনতে ভালো না লাগলেও এই নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।