• ‘ওদের মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছে’, সংশোধনী বিল নিয়ে মোদী সরকারকে খোঁচা মমতার
    এই সময় | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ‘বিজেপির পতন শুরু হয়ে গিয়েছে’, সংবিধান সংশোধনী বিল (মহিলা সংরক্ষণ এবং আসন বৃদ্ধি সংক্রান্ত) প্রসঙ্গ তুলে শনিবার কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। শুক্রবার সংসদে সংশোধনী বিল পাশ করাতে পারেনি নরেন্দ্র মোদীর সরকার। সে প্রসঙ্গ টেনে এ দিন পাঁচলার সভা থেকে মমতার তোপ, ওটা মহিলা বিলই নয়। তিনি বলেন, ‘মহিলা বিলের নামে লোকসভায় ৫৪৩টা সিট বাড়িয়ে সাড়ে ৮০০র মতো সিট করতে চেয়েছিল। দেশটাকে ভাগ করতে চেয়েছিল। বঙ্গভঙ্গ করতে চেয়েছিল। আমার এখানে ভোট, তার পরেও আমাকে ২০ জনকে পাঠাতে বলে। আমি ২১ জন সাংসদকে পাঠিয়েছিলাম। আমরা গতকাল (শুক্রবার) বিজেপিকে পরাস্ত করেছি। ওদের পতন শুরু হয়েছে। মহিলা বিল নয় ওটা, ডিলিমিটেশন বিল ঢুকিয়েছিল তার মধ্যে। আমরা মহিলাদের পক্ষে। দেশ ভাগের পক্ষে নই। বিজেপির মুখ দেখবেন, চুপসে গিয়েছে।’

    ২০২৩ সালেই পাশ হয়েছে মহিলা সংরক্ষণ বিল। সেই বিল অনুযায়ী, ২০২৭-এর জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভায় আসন পুনর্বিন্যাস হওয়ার কথা। ২০৩৪-এর লোকসভা নির্বাচন থেকে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিষয়টিও বলবৎ হওয়ার কথা। কিন্তু ২০২৯ সাল থেকে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে আচমকাই সংবিধান সংশোধনী বিল আনে কেন্দ্র। তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের বিলটিও।

    বিরোধীদের যুক্তি ছিল, ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী আসন পুনর্বিন্যাস হলে উত্তর ভারতের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে। অর্থাৎ বিজেপির শক্তঘাঁটি গো-বলয়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে। প্রতিনিধিত্ব কমবে দক্ষিণ ভারত, উত্তর-পূর্ব এবং ছোট রাজ্যগুলির। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহরা আশ্বাস দিয়েছিলেন, এমনটা হওয়ার সম্ভাবনাই নেই। তবে শুক্রবার সংসদকক্ষে উপস্থিত সাংসদদের দুই-তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এ বিল পাশ করাতে পারেনি মোদী সরকার।

    পাঁচলা থেকে শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ভোটকাটারিরা চেয়েছিল ডিলিমিটেশন—ভাগাভাগি। বলেছিলাম, ওদের পতন হবে। গতকাল (শুক্রবার) থেকে পতন শুরু করে দিয়েছি। মুখে ঝামা ঘষে দেওয়া হয়েছে। বাংলার মানুষ আর একবার ঝামা ঘষে দিন। তার পরে দেখব, বিজেপি কী করে সরকারে থাকে। সিঙ্গল মেজরিটি নেই। অন্যের সাপোর্টে বসে আছে। সব যাবে। যখন পতন শুরু হয়, একেবারে হয়।’

    একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তৃণমূলকে বিল এনে মহিলাদের আসন দিতে হয় না। পঞ্চায়েত, মিউনিসিপ্যালিটিতে ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ করেছে তৃণমূল। লোকসভায় তৃণমূলের নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে মহিলা ৩৭ শতাংশ। রাজ্যসভায় ৪৬ শতাংশ।

    মমতা বলেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) থেকে খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। লোকসভায় পরাস্ত হয়েছ। এ বার মাটিতে পরাস্ত হবে। বিজেপিকে ভারত থেকে তাড়ানোর যুদ্ধ শুরু হোক বাংলার মাটি থেকে। বাংলা জয় করে আমরা দিল্লি জয় করব। এটা শপথ।’

    এ দিন পাঁচলার সভা থেকে আরও একবার মমতা দাবি করেন, বাংলা দখলে বিজেপি সব রকম চেষ্টা করছে। ‘স্লো ভোটিং, স্লো কাউন্টিং’-এর পথেও হাঁটার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। গণনা নিয়ে কর্মীদের সতর্ক করে মমতা বলেন, ‘প্রথমে রটিয়ে দেওয়া হবে তৃণমূল হারছে। ভয় পাবেন না। সূর্যোদয় বিজেপি দিয়ে শুরু হলেও সূর্যাস্ত করবে তৃণমূলই। শেষ জয়ে বিজয়ী হবে তৃণমূলই।’

    মমতার কথায়, ‘গতকাল (শুক্রবার) থেকে খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। লোকসভায় পরাস্ত হয়েছ। এ বার মাটিতে পরাস্ত হবে। বিজেপিকে ভারত থেকে তাড়ানোর যুদ্ধ শুরু হোক বাংলার মাটি থেকে। বাংলা জয় করে আমরা দিল্লি জয় করব। এটা শপথ।’

    এ দিন পাঁচলার সভা থেকে আরও একবার মমতা দাবি করেন, বাংলা দখলে বিজেপি সব রকম চেষ্টা করছে। ‘স্লো ভোটিং, স্লো কাউন্টিং’-এর পথেও হাঁটার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। গণনা নিয়ে কর্মীদের সতর্ক করে মমতার বার্তা, ‘প্রথমে রটিয়ে দেওয়া হবে তৃণমূল হারছে। ভয় পাবেন না। সূর্যোদয় বিজেপি দিয়ে শুরু হলেও সূর্যাস্ত করবে তৃণমূলই। শেষ জয়ে বিজয়ী হবে তৃণমূলই।’

  • Link to this news (এই সময়)