মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুর বিধানসভা— এই দু’টি আসনেই ২০২১ সালে খাতা খুলতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। এ বার মুর্শিদাবাদ জেলায় ২২-০ করার টার্গেট। শনিবার মুর্শিদাবাদের লালবাগ সিঙ্ঘি হাই স্কুলের মাঠের জনসভা থেকে বিজেপি-কংগ্রেসকে একযোগে আক্রমণ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিশেষ বার্তা দিলেন বহরমপুর কেন্দ্রের সিপিএম কর্মী, সমর্থকদের জন্যেও।
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুর আসন দু’টি জিতেছিলেন বিজেপি প্রার্থীরা। সংখ্যালঘু অধুষ্যিত জেলায় চমকে দিয়েছিল এই ফলাফল। এই কেন্দ্র দু’টিতে কেন তৃণমূলের জেতার প্রয়োজন? অভিষেকের দাবি, ‘কারণ এখানে এত ঐতিহ্যবাহী জায়গা রয়েছে, যদি বিজেপি জেতে তা হলে এদের লক্ষ্য অশান্তি করা। তাতে পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নেবেন।’
বহরমপুর আসন থেকে এ বার লড়ছেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। বিজেপি প্রার্থী বিদায়ী বিধায়ক সুব্রত মৈত্র। সিপিএম এখানে প্রার্থী দেয়নি। সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের প্রার্থী হয়েছেন আবুল কাশেম শেখ। এই কেন্দ্রের সিপিএম কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, ‘বামপন্থী বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করতে চাই, ২৩ তারিখ ভোটটা কাকে দেবেন? অধীর চৌধুরীকে? যাঁর দুর্নীতির, অত্যাচারের সিন্ডিকেট যখন মধ্যগগনে ছিল, সিপিএমের একের পর এক কর্মীরা অত্যাচারিত হয়েছেন এই জেলাতে। ২০১১ সালের পরে এখানে কোনও সিপিএম নেতা-কর্মীদের উপরে অত্যাচার হয়নি।’ বাম জমানায় এই কেন্দ্রে সিপিএম কর্মীদের উপরে কংগ্রেসের অত্যাচারের বেশ কিছু উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। অভিষেকের কথায়, ‘পালাবদলের আগে বহরমপুরে শিবির শেষ করে বাড়ি ফেরার সময়ে খাগড়া চৌমাথায় খুন হয়েছিলেন সিপিএমের যুবনেতা দেবাশিস ঘোষাল। কংগ্রেস গুন্ডাদের হাতে খুন হয়েছিলেন মানব সাহা, পঞ্চানন মণ্ডল, হরিদাসমাটির গোপাল মণ্ডল, মধুপুরের তিন ছাত্র নেতা বাপ্পা, সন্তু, পিন্টু, ভরতপুরের তপন মুখোপাধ্যায়-সহ অনেকে। এদের কে খুন করেছে? ২৩ তারিখ ভোট কাকে দেবেন?’
এই কেন্দ্র থেকে গতবার জিতেছিলেন বিজেপি প্রার্থী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। মাত্র ২,৪৯১টি ভোটে হেরেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী শাওনি সিংহ রায়। এ বারেও তাঁকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি প্রার্থীর উদ্দেশে অভিষেক বলেন, ‘যিনি বিজেপির প্রার্থী, গৌরীশঙ্কর ঘোষ, পাঁচ বছর নিজের এলাকায় নিখোঁজ ছিলেন। কোভিডের সময় তাঁকে মানুষের পাশে পাওয়া যায়নি। বিধায়কের শংসাপত্রের জন্য তাঁকে ফোন করলে, ফোন তোলেন না বা ফোনে পাওয়া যায় না। ২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তাঁকে হাতেনাতে ধরেছিলাম ৩০ হাজার ফর্ম ৭ নিয়ে, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল এই বিজেপির প্রার্থী। মানুষকে লাঞ্ছিত, বঞ্চিত করার যে পরিকল্পনা, এর বিরুদ্ধে মানুষকে সোচ্চার হতে হবে।’
এ দিনের সভায় অভিষেকের নিশানায় ছিলেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী, আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর, ISF বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। ঘটনাচক্রে এই তিন জন বিধায়ক কেন্দ্রীয় সরকারের নিরাপত্তা পান। অভিষেক বলেন, ‘এই তিনজনকেই নিরাপত্তারক্ষী প্রদান করে অমিত শাহের পুলিশ। যদিও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তেই হয়, ক্ষমতা থাকলেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাখ্যান করুন। প্রয়োজনে রাজ্য সরকার নিরাপত্তা দেবে।’ কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কোনও ডিল রয়েছে অধীরের? কংগ্রেস নেতাকে খোঁচা দিয়ে অভিষেকের অভিযোগ, ‘সাংসদরা হেরে গেলে দিল্লিতে তাঁদের বাড়ি খালি করে দিতে হয়। এখনও পর্যন্ত অধীর চৌধুরীর বাড়ি খালি করতে বলেনি। কেন? ডিলটা কী?’
মুর্শিদাবাদ জেলায় হাজারদুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের পরে দ্রুততার সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণে কাজ শুরু হবে– এ দিনের মিটিংয়ে সেই আশ্বাস দেন অভিষেক।