দলই ছেড়ে দিলেন হুমায়ুন কবীরের আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী। এই মুহূর্তে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আর সময় নেই। তাই ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, তাঁকে ভোট না দিয়ে পছন্দের অন্য কোনও প্রার্থীকে ভোট দিন!
হুমায়ুনের সঙ্গে বিজেপির আঁতাঁতের অভিযোগ তুলে সদ্য যে ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এনেছে তৃণমূল, তা নিয়েই ক্ষোভপ্রকাশ করে শনিবার দল ছেড়েছেন মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্রের আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী মহম্মদ তোহিদুর রহমান। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানান, তিনি শুধু দলের প্রার্থীই নন। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি এবং মালদায় দলের সাধারণ সম্পাদক। সদ্যপ্রকাশ্যে আসা ভিডিয়োর প্রেক্ষিতে তাঁর অভিযোগ, হুমায়ুন আসলে সংখ্যালঘুদের বোকা বানানোর চক্রান্ত করছেন। সেই কারণেই তিনি দলত্যাগ করলেন।
তোহিদুর বলেন, ‘প্রথমে উনি (হুমায়ুন)দাবি করেছিলেন যে, ভিডিয়ো এআই দিয়ে বানানো। পরে উনি ভিডিয়োর সত্যতা স্বীকার করলেন। এ-ও বললেন যে, উনি পুরো ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আনবেন। এর থেকেই আমার মনে হয়েছে, উনি সংখ্যালঘুদের বোকা বানানোর চেষ্টা করছেন। উনি কোনও বড় ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত। শুধু তা-ই নয়, উনি সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি করছেন। আমি চাই, আমার বাংলা সোনার বাংলা হোক। এখানে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান হোক। হুমায়ুন কবীরের অন্য অ্যাজেন্ডা রয়েছে। আমি ওই অ্যাজেন্ডা নিয়ে চলতে পারব না। আমার সঙ্গে মতের মিল হচ্ছে না।’ ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, ‘আমি এখন মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারব না। আপনারা আমাকে ভোট দেবেন না। পছন্দের অন্য প্রার্থীকে ভোট দিন।’
এ নিয়ে মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কবিতা মণ্ডল বলেন, ‘ওঁরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারছেন। এটা ভালো ব্যাপার।’ অন্য দিকে, বিজেপির দক্ষিণ মালদার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘তৃণমূলের চক্রান্ত ফাঁস হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝেছিলেন, সংখ্যালঘু ভোট তাঁদের দিক থেকে সরে বিজেপির দিকে ঝুঁকছে। সেই কারণে উনি বাবরি মসজিদের চক্রান্ত করেছিলেন সংখ্যালঘু ভোটকে নিজের দিকে টানার জন্য।’