টালির বাড়িতে আগুন, নেভাতে ছুটলেন তিন দলের প্রার্থী
আজকাল | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোট আসলেই রাজনৈতিক নেতাদের মানুষের সেবায় নিজেদের বিলিয়ে দেওয়ার ছবি দেখা যায়। প্রতিবার ভোটেই একই ছবি। কেউ গরিবের ঘরে গিয়ে পাত পেড়ে ভোজ সারেন, কেউ ঘুঁটে লেপে দেন, কেউ দাঁড়ি কামিয়ে দিচ্ছেন, তো কেউ পা ধুয়ে দেন। নানা রঙ্গ দেখা যায় ভোট আসলেই। এরকমই এক ঘটনার সাক্ষী থাকল হাওড়ার বালি। সেখানকার দু’টি টালির বাড়িতে আগুন লাগে শুক্রবার রাতে। সেই আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ছুটে এলেন তিন দলের প্রার্থীরা। ভোটের মুখে যা ব্যতিক্রমী। বালির ঘটনায় সৌজন্যের বার্তা ছড়িয়েছে সমাজে।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে বালি বিধানসভা এলাকার রাধানাথ ব্যানার্জী লেনে পরপর দু’টি বাড়িতে আগুন লেগে যায়া। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি বাড়ি বিজেপি নেতার ভাইয়ের ছিল। আগুন লাগার খবর পেয়ে আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তৃণমূল প্রার্থী। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বালির বিজেপি এবং সিপিআইএমের প্রার্থী। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে দমকলের দু’টি ইঞ্জিন। ঘন্টা খানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দমকল। আগুন নেভাতে হাতে হাত মেলান স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি আগুন নেভাতে হাত লাগান বালির তৃণমূল প্রার্থী কৈলাশ মিশ্র, বিজেপির সঞ্জয় সিং এবং সিপিএম প্রার্থী শঙ্কর মৈত্রও। আগুনের ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর না থাকলেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অনেক।
তৃণমূল প্রার্থী কৈলাশ বলেন, “রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ খবর পাই। সবাই মিলে ঝাপিয়ে পড়ি আগুন নেভাতে। ঠাকুরের কৃপায় কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। আমরা সবাই মিলে কাজ করেছি। মানুষ ভাল না থাকলে, বেঁচে কি লাভ? কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবার পাশে থাকতে হবে।”
বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় বলেন, “আমাদেরই কার্যকর্তার নিজের ভাইয়ের বাড়িতে শুক্রবার রাতে আগুন লেগে যায়। আনের মালপত্র পুড়ে গিয়েছে। দমকল ৪০-৪৫ মিনিট পরে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সহযোগিতা করেছেন। সবাইকে আবেদন করছি সাহায্য করার জন্য। রাজনীতি নয়, সাধারণ মানুষের পাশে তো দাঁড়াতে হবে।”
সিপিএম প্রার্থী শঙ্কর “দমকল এবং স্থানীয়রা সবাই মিলে আগুন নিভিয়েছে। কারও তেমন বড় কোনও ক্ষতি হয়নি। কোনও রাজনীতি নেই। মানুষ বিপদে পড়লে সকলেই পাশে থাকবেন।”