• বেলডাঙাকাণ্ডের ৯০ দিনেও চার্জশিট দিতে ব্যর্থ এনআইএ
    আজকাল | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ৯০ দিনেও চার্জশিট পেশ করতে পারল না জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। এর ফলে বেলডাঙাকাণ্ডে জামিন পেলেন অভিযুক্তরা। শনিবার এনআইএ-র বিশেষ আদালত বেলডাঙার ঘটনায় ধৃত ৩৫ জনের মধ্যে ১৫ জনের শর্তসাপেক্ষ জামিন মঞ্জুর করেছে। ১০ হাজার টাকার বন্ডে জামিন দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, অভিযুক্তদের গতিবিধি উপর নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

    গত জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। রেল অবরোধ, জাতীয় সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর এবং বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল পরিস্থিতি। এমনকি আক্রান্ত হয়েছিল সংবাদমাধ্যমও। রাজ্য পুলিশ তদন্ত শুরু করে গ্রেপ্তার করলেও পরে তদন্তভার পায় এনআইএ। মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ঘটনার ৯০ দিন পরেই আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। তারপরেই জামি দেওয়া হয় ১৫ জনকে। শুনানিতে বিঘ্ন যাতে না ঘটে তাই অভিযুক্তদের বেলডাঙার পরিবর্তে কলকাতায় এনে রাখা হয়েছিল আদালতের নির্দেশে। জামিন মঞ্জুর করে আদালতের নির্দেশ, কলকাতা পুরসভার এলাকার বাইরে বেরনো যাবে না এবং প্রতিটি শুনানিতে সশরীরে হাজির হতে হবে।

    প্রসঙ্গত, ঝাড়খণ্ডের পালামৌ জেলায় পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে সম্প্রতি অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয় মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখ নামে এক ব্যক্তির। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জানুয়ারি উত্তাল হয়ে ওঠে বেলডাঙার বিভিন্ন এলাকা। ওই দিন বেলডাঙার বড়ুয়া মোড়ের কাছে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক প্রায় সাত ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে উত্তেজিত জনতা। এর পাশাপাশি বন্ধ করে দেওয়া হয় লালগোলা-শিয়ালদা শাখায় ট্রেন চলাচল। ভোগান্তির মধ্যে পড়ে অসংখ্য মানুষ। অবরোধের সময়ে সাংবাদিকদেরকে মারধর করার পাশাপাশি সরকারি এবং বেসরকারি প্রচুর সম্পত্তি ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছিল বেশ কিছু দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। 

    আলাউদ্দিনের পরিবারের এক সদস্যকে চাকরি এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেদিন প্রশাসন অবরোধ তুলতে সক্ষম হলেও বিহারে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলার ঘটনার অভিযোগ তুলে ১৭ জানুয়ারি ফের একবার বেলডাঙায় পথ ও রেল অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় উত্তেজিত জনতা। সেদিনও ভাঙচুর করা হয় বেশ কিছু সরকারি এবং বেসরকারি সম্পত্তি। এর পরেই কড়া পদক্ষেপ করে পুলিশ প্রশাসন। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপার কুমার সানি রাজের নেতৃত্বে সেদিন বিশাল পুলিশবাহিনী এলাকায় পৌঁছে লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের হটিয়ে দেয়।  এরপরই পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও দেখে বেলডাঙা অশান্তির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করে।
  • Link to this news (আজকাল)