'গোমাংস' বন্ধ হবে? কোচবিহারে হিমন্তের মন্তব্যে কমিশনের দ্বারস্থ TMC
আজ তক | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
‘গোমাংস’ এবং ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুতে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বৃহস্পতিবার কোচবিহারের সভা থেকে অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি-র তারকা প্রচারক হিমন্ত বিশ্বশর্মার করা একাধিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কুরুচিকর আক্রমণ এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের অভিযোগ, হিমন্তের এই ভাষণ কেবল মানহানিকর নয়, বরং তা বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার এক সুপরিকল্পিত চক্রান্ত।
ঠিক কী ঘটেছিল কোচবিহারে?
কোচবিহার-১ ব্লকের ফলিমারিতে বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত সভায় হিমন্ত বিশ্বশর্মা তৃণমূলের ‘বিজেপি আমিষ বিরোধী’ প্রচারের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করছে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে মাছ বা মাংস বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। এর জবাবে হিমন্ত বলেন, 'পূর্ব ভারতের কামাখ্যা দেবী বা মা কালীর পুজোয় বলি দেওয়ার প্রথা রয়েছে। সেখানে মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে কোনও নিষেধ নেই। আসলে দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ভয় পেয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এখানে গোমাংস বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে।' তিনি আরও দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল গোমাংস নিয়ে চিন্তিত, সাধারণ মানুষের মাছ, মুরগি বা খাসির মাংস নিয়ে তাঁর কোনও মাথাব্যথা নেই।
তৃণমূলের নালিশ ও সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগ
তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অভিযোগে জানিয়েছে, হিমন্ত বিশ্বশর্মা কোচবিহারের সভায় অত্যন্ত প্ররোচনামূলক এবং ভীতিপ্রদর্শনকারী মন্তব্য করেছেন। অভিযোগপত্রে ধুবড়ির একটি প্রসঙ্গের উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে হিমন্ত দাবি করেন যে ইদের সময় হিন্দুদের দরজায় গোমাংস রাখার অপরাধে তিনি কড়া ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তৃণমূলের দাবি, জনসভায় দাঁড়িয়ে এই ধরণের হিংসাত্মক উদাহরণ টেনে আনা আদতে ভোটারদের মধ্যে মেরুকরণ তৈরির চেষ্টা। এছাড়াও, নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ ছাড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গোমাংস পাচারে মদত দেওয়ার যে অভিযোগ তিনি তুলেছেন, তাকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘মানহানিকর’ বলে অভিহিত করেছে শাসক দল।
অনুপ্রবেশ ও কাঁটাতার নিয়ে কড়া বার্তা
নির্বাচনী জনসভায় হিমন্ত বিশ্বশর্মার নিশানায় ছিল অনুপ্রবেশ সমস্যাও। তিনি অভিযোগ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে সবথেকে বেশি গোরু পাচার হয় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমি না দেওয়ায় সীমান্তে কাঁটাতার বসানো সম্ভব হচ্ছে না। হিমন্ত প্রতিশ্রুতি দেন, বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে ত্রিপুরা, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গ মিলিয়ে একটি অভিন্ন সীমানা তৈরি করা হবে। সেখানে কেবল কাঁটাতার নয়, অনুপ্রবেশকারী ও পাচারকারীদের রুখতে ‘ইলেকট্রিক ফেন্সিং’ বা বৈদ্যুতিক বেড়া লাগানো হবে। তাঁর মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতকে বাঁচাতে হলে বাংলার সীমান্তে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া অনিবার্য।