• তেইশ সালের মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করুক, মোদি সরকারের উপর চাপ বাড়ালেন প্রিয়াঙ্কা
    প্রতিদিন | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • মহিলা সংরক্ষণ বিলের আড়ালে লোকসভায় আসন বাড়ানোর ‘ষড়যন্ত্র’ করেছিল কেন্দ্র, যা আটকানো সম্ভব হয়েছে বলে সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধি (Priyanka Gandhi)। তিনি আরও বলেন, প্রথমবার ধাক্কা খেয়েছে এনডিএ সরকার। সেই কারণে এই দিনটিকে ‘কালো দিন’ বলে ব্যাখ্যা করছেন তারা। এদিন প্রিয়াঙ্কা সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, “২০২৩ সালে মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত যে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়েছিল, সেটি সোমবার অবিলম্বে কার্যকর করা হোক। আমরা সবাই সমর্থক করব।”

    সংসদে সংবিধান সংশোধনকারী মহিলা সংশোধনী বিল এনে ভোটাভুটিতে সম্মিলিত বিরোধী জোটের কাছে পরাজিত হয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। ১২ বছরে প্রথমবার এই ধাক্কা খেল এনডিএ জোট। একে বিরাট জয় বলে প্রচারে নেমেছে বিরোধী ইন্ডিয়া শিবির। শনিবার পরবর্তী রণকৌশল নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন তারা। বৈঠকের পর প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, “গতকালের ঘটনা গণতন্ত্রের বড় জয়। গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে ষড়যন্ত্র করেছিল সরকার। সেটা আটকানো গিয়েছে। বিরোধীদের একতার জয় হয়েছে। ক্ষমতায় থাকার জন্য ষড়যন্ত্র করেছে। মহিলাদের ব্যবহার করেছে। কিন্তু মহিলাদের ‘মসিহা’ হওয়া এত সহজ নয়। বিরোধীরা একজোট হলে কীভাবে বিজেপি শাসিত এনডিএকে হারানো যায় তা গোটা দেশ দেখল।”

    বিজেপির এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে বিরোধী জোট আগে থেকেই জানতে বলে দাবি করেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর দাবি, বিজেপি জোট ভেবেছিল বিলটি পাশ হয়ে গেলে ভালো হবে আর পাশ না হলে বিরোধীদের মহিলা-বিরোধী বলে দাগিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু বর্তমানে মহিলারা এত বোকা নয় বলে দাবি তাঁর। ভুল বুঝিয়ে কোনও লাভ হবে না।

    বিরোধীদের দাবি, লোকসভা এবং রাজ্যসভায় ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল। এই বিলে বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর ওই আসনের এক-তৃতীয়াংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। কিন্তু জনগণনা পর্যন্ত অপেক্ষা না করে লোকসভার আসন বাড়ানোর সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রিয়াঙ্কার দাবি, বিজেপি ভেবেছিল, এই মুহূর্তে ডিলিমিটেশন করা না হলে ২০২৯-এর আগে তা আর হবে না। ক্ষমতায় টিকে থাকতে এই ষড়যন্ত্র করেছে বিজেপি সরকার।
  • Link to this news (প্রতিদিন)