• নজরে মহিলা ভোট, বাঁকুড়ায় এবার ‘সিঁদুরে রাজনীতি’ তৃণমূলের
    প্রতিদিন | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • এবার ভোটের (West Bengal Assembly Election) অঙ্ক যেন মিশে যাচ্ছে কপালের সিঁদুরের টিপে। বাঁকুড়া (Bankura) বিধানসভার  কেঞ্জাকুড়া থেকে মানকানালি – বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে সিঁদুরের কৌটো বিলি ঘিরে চলছে রাজনৈতিক তরজা। চায়ের দোকান থেকে পাড়ার মোড় – সব জায়গাতেই এখন আলোচনা, “কপালে টিপ পরবে নাকি ভোটের টিপ?”

    স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রচারের অংশ হিসেবে গৃহবধূদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ছোট সিঁদুরের কৌটো। অনেক ক্ষেত্রেই সেই কৌটোর গায়ে দেখা যাচ্ছে তৃণমূল প্রার্থী চিকিৎসক অনুপ মণ্ডলের ছবি। কেঞ্জাকুড়ার একাধিক গ্রামে প্রচারের সময় দলীয় কর্মীরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো মহিলাকেন্দ্রিক প্রকল্পের কথাও তুলে ধরছেন। ফলে, সিঁদুরের কৌটো যেন শুধুই একটি গৃহস্থালির জিনিস নয়। হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক বার্তার বাহক। তৃণমূল প্রার্থী অনুপ মণ্ডল এই প্রসঙ্গে কেঞ্জাকুড়ায় এক প্রচারসভায় বলেন, “এটা কোনও প্রলোভন নয়। আমরা মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের বন্ধন আরও মজবুত করতেই এই কৌটো দিচ্ছি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পে এলাকার বহু মহিলা উপকৃত হয়েছেন। তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ।”

    বিজেপি প্রার্থী নীলাদ্রীশেখর দানা বাঁকুড়া শহরের এক পথসভায় এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করেন। বলেন, “উন্নয়নের হিসেব দিতে পারে না। আর এখন কৌটো বিলি করে মানুষের মন ভোলানোর চেষ্টা চলছে। ভোটের (West Bengal Assembly Election) আগে এই ধরনের সামগ্রী বিলি করা ঠিক নয়। মানুষ সব বুঝতে পারছেন, ভোটে তার জবাব দেবে।” এই ঘটনা ঘিরে গ্রামে রসিকতারও অভাব নেই। মানকানালির চায়ের দোকানে আড্ডায় শোনা যাচ্ছে, “সিঁদুর তো কপালে পরবেই, ভোটটা কোথায় পরবে সেটাই এখন দেখার!” আবার কোথাও মজা করে বলা হচ্ছে, “কৌটো এল হাতে, ভোট যাবে কাকে – সেই হিসেব কষছে সবাই।” ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই বাঁকুড়ায় বাড়ছে ‘সিঁদুর রাজনীতি’।
  • Link to this news (প্রতিদিন)