ভোটের মুখে ‘ভুয়ো ভোটার’ আতঙ্ক! আসানসোলে একই ব্যক্তির একাধিক এপিক নম্বর ঘিরে তরজা
প্রতিদিন | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
নির্বাচনের (Bengal Election 2026) মুখে আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের ১৭১ নম্বর পার্টে ভোটার তালিকায় চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই ব্যক্তি, একই ছবি ও ঠিকানা, অথচ তাঁর নামেই রয়েছে একাধিক ভোটার কার্ড বা এপিক নম্বর। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। এই নিয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য।
অভিযোগ, রবি চৌধুরী ও আয়ুষ কুমার সিংহ নামের দুই ভোটারের একাধিক এপিক নম্বর রয়েছে। রবি চৌধুরীর বাবার নাম ঈশ্বর দয়াল চৌধুরী। প্রকাশিত সংশোধিত তালিকায় তাঁর নামে চারটি পৃথক এপিক নম্বর পাওয়া গিয়েছে। অন্যদিকে আয়ুষের বাবার নাম পঙ্কজ সিংহ। তাঁর নামেও রয়েছে দুটি পৃথক সিরিয়াল ও এপিক নম্বর। তাঁরা দুজনেই আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের ১৭১ নম্বর পার্টের ভোটার। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ব্লক তৃণমূল সভাপতি গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় একে ‘বিজেপির চক্রান্ত’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, এসআইআর বা স্ক্রুটিনির পরেও কীভাবে একই ব্যক্তির নাম বারবার থাকে? বিজেপি ভোট (Bengal Election 2026) চুরির মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে এবং নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করছে। প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতুন্ডি সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে ‘বিজেপির বি-টিম’ বলে আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ভুয়ো ভোটার ঢুকিয়ে বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়ার দালালি চলছে কমিশন। তিনি এ বিষয়ে তথ্য-সহ রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ জানানোর কথা বলেছেন। এই নিয়ে গতকাল সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। ভোটার তালিকার ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “আসানসোলে একই বুথে একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার। তাও আলাদা আলাদা এপিক নম্বরে! কীসের এসআইআর হল তবে?আর এরা কারা?”
যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় জানান, এটি সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের যান্ত্রিক বা সিস্টেমের ভুল। তিনি জানান, তালিকায় অনেক ভুল আছে যা সংশোধনের উপায়ও আছে। বিরোধীদের আক্রমণকে তিনি ‘অশিক্ষিতের প্রলাপ’ বলে কটাক্ষ করেন।