বৈশাখের শুরুতেই বাড়ছে গরম! হিট স্ট্রোক মোকাবিলায় সব হাসপাতালে তৈরি থাকছে দু’টি বেড
প্রতিদিন | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ভোটউত্তাপের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গরম! শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ শনিবার থেকে তাপমাত্রা আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস। বৈশাখের শুরুতেই তাপপ্রবাহ জনিত সর্তকতা নিয়ে সার্কুলার জারি করল স্বাস্থ্য দপ্তর। হিট স্ট্রোক থেকে মৃত্যু ঠেকাতে প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে করা হল দুটি পৃথক বেডের বন্দোবস্ত। স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তাপপ্রবাহ জনিত অসুস্থতা বা হিট রিলেটেড ইলনেস ঠেকাতে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে রাজি নয় স্বাস্থ্য দপ্তর। প্রতিটি হাসপাতালে একটি নির্দিষ্ট ঘর রাখতে বলা হয়েছে তাপপ্রবাহজনিত অসুস্থ রোগীদের জন্য। সেই ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, এসি, এয়ার কুলার এবং হাই স্পিড ফ্যানের বন্দোবস্ত করতে বলা হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং বাদ দিয়ে সমস্ত জেলায় লাগু হবে এই বিশেষ বন্দোবস্ত। এই সময় পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূমের তাপমাত্রা চল্লিশ ছাড়িয়ে যায়। প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওআরএস, আইস প্যাক, ঠান্ডা পানীয় জল, ভেজা তোয়ালে, থার্মোমিটার, গ্লুকোমিটার, ওয়াটারপ্রুফ জিপার, হাই ফ্লো অক্সিজেন, লোরাজেপাম, ডায়াজেপাম, অ্যাড্রেনালিনের বন্দোবস্ত করতে বলেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ হিট স্ট্রোকে অসুস্থ হয়ে কেউ হাসপাতালে এলে নিরবচ্ছিন্ন শীতল পরিবেশে রোগীকে রাখতে হবে। এই সময় বিদ্যুৎ পরিষেবা যেন নিরবচ্ছিন্ন থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে কর্তৃপক্ষকে। নির্দেশিকায় সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলিকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। জরুরি ও আপৎকালীন পরিষেবায় কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে আউটডোর ওয়ার্ড এবং অপেক্ষমাণ রোগীদের জন্য ছায়াযুক্ত ও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অন্য কোনও সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসা ব্যক্তিদের মধ্যেও কেউ গরমে অসুস্থ হয়ে না পড়েন।
স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে আরও জানানো হয়েছে, হিট স্ট্রোক সংক্রান্ত সব কেসের সঠিক নথিভুক্তিকরণ ও নিয়মিত রিপোর্টিং বাধ্যতামূলক। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের এই তথ্য স্বাস্থ্যভবনে পাঠাতে হবে নিয়মিত। সাধারণ মানুষকে দুপুরের তীব্র রোদ এড়ানো, পর্যাপ্ত জল খাওয়া, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা এবং অসুস্থতা অনুভব করলে দ্রুত নিকটবর্তী চিকিৎসা কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।