বিরোধীদের সম্মিলিত অনড় অবস্থানেরই জয়। ১২ বছরের শাসনকালে এই প্রথম কোনও সংবিধান সংশোধনী বিল পাশে ব্যর্থ হলো কেন্দ্রীয় সরকার। লোকসভায় ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ না হওয়ার পরে আরও তীব্র হয়েছে রাজনৈতিক সংঘাত। শনিবার কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢ়রা যেখানে এই ঘটনাকে ‘NDA-র জন্য কালো দিন’ বলে উল্লেখ করেছেন। পাল্টা প্রধানমন্ত্রীও বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এর জন্য বিরোধীদের মূল্য চোকাতে হবে। সারাজীবন আক্ষেপ করবেন ওঁরা।’ এদিন দিল্লির সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির (Cabinet Committee on Security) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী এই মন্তব্য করেন।
বিলটি ব্যর্থ হওয়ার পরে মন্ত্রিসভায় বিরোধী শিবিরকে কার্যত নারী বিদ্বেষী বলে দাগিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিরোধী দলগুলোকে তাঁদের এই অবস্থানের জন্য মূল্য দিতে হবে’। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর করার পথে বাধা দিয়েছে এবং বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করছে। তাঁর বক্তব্য, ‘বিরোধীরা দেশের মহিলাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং এই বার্তা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে হবে। ওদের এই অপকর্ম দেশের প্রতিটি গ্রামে, প্রত্যেকটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। যাতে দেশ ওদের স্বরূপ জানতে পারে।’ তাঁর মতে, এই বিল শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং এটি মহিলাদের অধিকার ও ক্ষমতায়নের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
ক্যাবিনেট বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যারা এই বিলের বিরোধিতা করেছে, তারা ভবিষ্যতে এর জন্য অনুশোচনা করবে।’ একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, রাজনৈতিক ভাবে এর ফল বিরোধীদের ভোগ করতে হতে পারে।
সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদী বিরোধীদের উদ্দেশ্যে আবেদন জানিয়েছিলেন, এই বিলকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে জাতীয় স্বার্থে সমর্থন করতে। তিনি আশ্বাস দেন যে, ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় কোনও রাজ্যের সঙ্গে অন্যায় করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘মহিলাদের এই অধিকার কোনও দয়া বা অনুগ্রহ নয়, বরং তাঁদের ন্যায্য অধিকার।’
অন্যদিকে বিরোধী দলগুলি জানিয়েছে, তারা নীতিগতভাবে নারী সংরক্ষণ সমর্থন করলেও আসন পুনর্বিন্যাস অর্থাৎ ডিলিমিটেশনের সঙ্গে এটিকে যুক্ত করার বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে। কংগ্রেস-সহ একাধিক দল অভিযোগ করেছে, সরকার এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে।
উল্লেখ্য, সংবিধান সংশোধনী এই বিলটির লক্ষ্য ছিল ২০২৯ সালের মধ্যে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর করা এবং ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো। কিন্তু লোকসভা ভোটাভুটিতে এটি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পায়নি। ভোটাভুটি চলাকালীন বিলটির পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি। ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছিলেন ৫২৮ জন সাংসদ। দরকার ছিল ৩৫২টি ভোটের।