এক দশকে প্রথমবার হারের মুখ দেখল মোদী সরকার (Central Government)। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করতে না পারায় পাশ হলো না তিনটি সংবিধান সংশোধনী বিল। বিরোধীরা উচ্ছ্বসিত। তার পরের দিন অর্থাৎ শনিবার তামিলনাড়ুর (Tamilnadu) মাটিতে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন, ‘রাজ্যগুলিকে দুর্বল করার চেষ্টা করলে ফল ভালো হবে না।’ একই সঙ্গে তামিলনাড়ুকে কেউ ছুঁতে পারবে না বলেও তোপ দাগেন তিনি।
লোকসভায় তিনটি সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে এসেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এর মধ্যে রয়েছে লোকসভার ৩৩ শতাংশ আসনে মহিলা সংরক্ষণ এবং আসন সংখ্যা ৫৯৪ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০-এ নিয়ে যাওয়া। গত বৃহস্পতিবার থেকে সংসদে শুরু হয়েছিল বিশেষ অধিবেশন। শুক্রবার বিকেলে প্রথমে লোকসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ নিয়ে ভোটাভুটি হয়। বিল পাশ করানোর জন্য দরকার ছিল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। ৫২৮ জন সদস্য ভোট দিয়েছিলেন, যার মধ্যে ৩৬৪ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ২৯৬-তেই আটকে যায় কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে বাকি দু’টি বিল আর তোলা হয়নি। কেন্দ্রের দাবি, তিনটি বিলই একই অন্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
২৩ এপ্রিল বিধানসভা ভোট হবে তামিলনাড়ুতে। তার আগে এ দিন পান্নেরিতে ডিএমকে-র সেকুলার প্রোগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সের সমর্থনে একটি জনসভায় রাহুল বলেন, ‘এই নির্বাচন আদর্শের লড়াই। যার কেন্দ্রে রয়েছে সামাজিক ন্যায়বিচার, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ কাঠামো এবং তামিল পরিচয়ের সুরক্ষা।’ বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘকে আক্রমণ শানিয়ে রাহুল বলেন, ‘যখন দেখি তামিল ভাষা এবং সংস্কৃতির উপরে আঘাত নেমে আসছে, তখন মনে হয় আমিও তামিল। কী ভাবে তারা এই ভাষা এবং সংস্কৃতিকে আক্রমণ করতে পারে।’
সংসদে কেন্দ্রের ‘হার’ নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করতেও ছাড়েননি কংগ্রেস সাংসদ। রাহুল সোজাসুজি বলে দেন, ‘পিছনের দরজা দিয়ে কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ কাঠামো বদলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমরা সবাই মিলে রুখে দিয়েছি।’ রাহুলের দাবি, ‘তামিলনাড়ুর প্রতিনিধি কমানোই ওদের আসল উদ্দেশ্য। যাতে দক্ষিণ এবং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি দুর্বল হয়ে যায়।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘এক দেশ এক ভোট’-কেও কটাক্ষ করেন তিনি। রাহুলের কথায়, ‘ভারতের সংবিধানের উপর সরাসরি আঘাত করা হচ্ছে।’
তামিলনাড়ুতে স্ট্যালিনের দলের সঙ্গে জোট রয়েছে কংগ্রেসের। এ বার তাদের ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই। বিজেপি এখনও প্রান্তিক শক্তি। কংগ্রেসের লড়াইটা মূলত AIADMK-র সঙ্গে। বিধানসভায় জিতলে ৬টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাহুল। মহিলা, প্রবীণ এবং বিশেষ ভাবে সক্ষমদের মাসে ২০০০ টাকা ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ৩০০ দিনের মধ্যে পূরণ হবে সমস্ত সরকারি শূন্যপদ।