ধর্মান্তকরণ চক্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’ নিদা খানই! নাসিকের টিসিএস কাণ্ডের তদন্তে নেমে এমনটাই দাবি তদন্তকারীদের। নিদার খোঁজে নানা জায়গায় তল্লাশি অভিযানও চলছে। এই পরিস্থিতিতে আগাম জামিনের আবেদন করে আদালতের দ্বারস্থ হলেন তরুণীর আইনজীবী। সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানালেন, তাঁর মক্কেল এখন দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বা! এই কারণে তাঁকে জামিন দেওয়া হোক।
শনিবার নাসিকের একটি আদালতে এই আবেদন করেছেন নিদার আইনজীবী রাহুল কাসলিওয়াল। আদালতে শুনানির পর তিনি বলেন, ‘উনি দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আর ওঁর বিরুদ্ধে যে সব মামলা দায়ের হয়েছে, তার জন্য সাজা প্রায় সাত বছরের কারাবাস। উনি একজন মহিলা। অন্য মহিলার সম্ভ্রমহানি হবে, উনি এমন কোনও কাজে জড়িত থাকতে পারেন না।’ রাহুল জানান, আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি হবে। সেখানে আগাম জামিন নিয়ে প্রথমে সওয়াল-জবাব হবে।
গত বছরের জানুয়ারিতে বিয়ে করেন নিদা। বিয়ের আগেই নাসিকে টিসিএস-এর বিপিও-তে বদলির আবেদন করেছিলেন তিনি। বিয়ের পরে চলে যান মুম্বই। ততদিনে তাঁর বদলিও মঞ্জুর হয়। এর পরেই তিনি নাসিকের অফিসে যোগ দেন। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিদার বাবা দাবি করেছেন, তাঁর মেয়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা ভুয়ো এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ধর্ষণে অভিযুক্ত নাসিকের স্বঘোষিত ধর্মগুরু অশোক খারাটকে বাঁচাতেই তাঁর মেয়েকে ফাঁসানো হচ্ছে।
নিদার খোঁজে ইতিমধ্যেই মুম্বইয়ে তিনটি দল পাঠিয়েছে নাসিকের পুলিশ। আটকও করা হয়েছে তাঁর স্বামীকে। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় তিনি জানান, গত ১৪ এপ্রিল থেকে শ্বশুরবাড়িতে নেই নিদা। তিনি গিয়েছিলেন এক আত্মীয়ের বাড়িতে। কিন্তু সেখানে গিয়েও তাঁর হদিশ মেলেনি বলেই দাবি পুলিশের। তদন্তকারীদের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই বাড়ি তালাবন্ধ ছিল। বাড়ির লোকেদের ফোনও করা হয়েছিল। তাঁদের ফোন বন্ধ। পুলিশ সূত্রের দাবি, পরে আবার নিজের বয়ান বদল করেছেন নিদার স্বামী। তিনি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই নিদাকে নাসিকে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর পিসি। কিন্তু এখন তাঁর স্ত্রী কোথায়, তা তিনি জানেন না।