ভাঙড়ের মাটিতে দাঁড়িয়ে শওকত মোল্লাকে জেতানোর ডাক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। শওকত জিতলে ‘ভাঙড়ের মানুষ যা চাইবেন, তাই করে দেওয়া হবে’, শনিবারের জনসভা থেকে সেই আশ্বাসই দিলেন মমতা। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ভাঙড় একমাত্র আসন, একুশের ভোটে যা জিতেছিল ISF। এ বার ক্যানিং পূর্ব থেকে সরিয়ে এনে সেই ভাঙড়ে শওকত মোল্লাকে প্রার্থী করা হয়েছে। ক্যানিং পূর্বের প্রার্থী বাহারুল ইসলাম। যা নিয়ে প্রথম থেকেই শওকত-অনুগামীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।
সূত্রের খবর, শওকতও আসন বদলে খুব একটা খুশি নন প্রথম থেকেই। যদিও ভোটের প্রচারে কোনও খামতি রাখছেন না শওকত মোল্লা। এ দিন সেই শওকতের হয়ে ভোটের প্রচারে যান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের একটা বড় অংশ জুড়েই ছিল শওকত-প্রসঙ্গ। কখনও মমতাকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আমি ডান হাত হলে, শওকত আমার বাঁ হাত’। কখনও বলেছেন, শওকতের নিরাপত্তা তুলে নিলে প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর নিজের সিকিউরিটি শওকতকে দিয়ে দেবেন।
এ দিন ভাঙড়ের ভোজেরহাটের সভায় বক্তব্যের একেবারে শুরুতেই মমতা বলেন, ‘আমার খুব প্রিয় প্রার্থী শওকত মোল্লা। কলকাতার সামনে ওকে দাঁড় করিয়েছি, আমি ভাঙড়ের জন্য অনেক কিছু করতে চাই। শওকতকে ভোট দিন, ভাঙড়বাসী যা চাইবেন, তাই করে দেবো। কারও কথা শুনবেন না, কোনও নির্দলকে ভোট নয়।’
কারও নাম না করেই মমতার তোপ, ভাঙড়ে কিছু ‘বিজেপির দালাল’ রয়েছে। তারা ‘টুকটুক করে বোমা মারে’ আর বিজেপিকে ফোন করে গ্রেপ্তার করানোর জন্য বলে। মমতার কথায়, ‘আমি ইচ্ছে করে ক্যানিং থেকে শওকতকে নিয়ে এসেছি। ৮টা থানার কথা, মেডিক্যাল কলেজটা যে হয়নি, সবই ও আমাকে জানিয়েছে। আমিও বললাম, করে দেবো। আমাকে যে ভাবে শওকত বলবে, বাহারুলকে নিয়ে সে ভাবেই কাজ করব। ওকে আমি খুব ভালোবাসি।’
এর পরেই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন মমতা। বলেন, ‘শওকত মোল্লাকে খুন করতে চায় ওরা। বিজেপিকে বলে ওর সিকিউরিটি তুলে নিতে চায়। আমি সব খবর রাখি। বিজেপি নেতাদের ২০টা করে গাড়ি, সেন্ট্রাল ফোর্স। আর শওকতদের সিকিউরিটি কেড়ে নেবে। মানুষের সিকিউরিটি নিয়ে খেলবেন না। আমার সিকিউরিটি তুলে নিন। যদি সে রকম হয় আমি আমার সিকিউরিটি তুলে নিয়ে শওকতকে দিয়ে দেবো। দেখি কী করতে পারেন। আমার সিকিউরিটির দরকার নেই। সিকিউরিটি তুলে নিয়ে ওর উপরে কোনও হামলা হলে আমি ছেড়ে কথা বলব না। প্রশাসনকে জানিয়ে রাখলাম। আমি বাঁ হাত হলে, শওকত আমার ডান হাত।’
মমতা জানান, এই ভাঙড়ে কোনও উন্নয়ন ছিল না। এখন সারা ভারতবর্ষের লেদার হাব বানতলার মাটিতে। তাঁর সরকারই ১১০০ একর জমিতে লেদার হাব তৈরি করেছে। যেখানে ৫ লক্ষ ছেলেমেয়ের কাজ হয়েছে। আরও ২ লক্ষ কর্মসংস্থান হবে।