রূপনারায়ণ ও দামোদর নদের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত উলুবেড়িয়া লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বাগনান বিধানসভা কেন্দ্র। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে আধা-শহর হয়ে উঠেছে এই কেন্দ্র। রয়েছে একাধিক সমস্যাও। কোন সমস্যার কথা তুলে ধরলেন সেখানকার ভোটাররা? কী-ই বা বলছেন প্রার্থীরা। খোঁজ নিল এই সময় অনলাইন।
উলুবেড়িয়ার মত রেলপথ ও সড়কপথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে বাগনানে। ফলে এখানে দ্রুত হচ্ছে নগরায়ণ। জন ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বভাবত নাগরিক পরিষেবার উন্নতির দাবি বাড়ছে। মানুষ চাইছে আরও একটু স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটাতে চাইছেন। দাবি উঠছে বাগনান পুরসভার। ১৯৫১ সাল থেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে জিতেছেন বাম বা কংগ্রেস প্রার্থীরা। ২০১১ সালের পর থেকেই সেই চিত্র বদলে যায়। এই কেন্দ্র থেকে টানা জিতে আসছেন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক অরুণাভ সেন।
হাওড়া গ্রামীণ জেলার উলুবেড়িয়ার পরেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বেশি বাড়ছে বাগনানে। নতুন নতুন আবাসন তৈরি হওয়ায় বাড়ছে জনসংখ্যা। বাড়ছে গাড়ির চাপ। তাই বাগনান শহর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মানুষের জীবনধারণের জন্য। বিধানসভা এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, সড়ক পথ হোক বা রেল পথ, বাগনান বিধানসভা কেন্দ্রের ৮০ শতাংশ মানুষকেই যাতায়াত করতে হয় এই বাসস্ট্যান্ড থেকেই। কিন্তু বাসস্ট্যান্ড বড় হলেও অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। ফলে সমস্যা বাড়ছে।
অন্য দিকে বিধানসভার একটা বড় অংশ ফুল চাষের সঙ্গে যুক্ত। ফুল চাষিদের ফুল সংরক্ষণের জন্য দীর্ঘদিন আগে বাগনানে একটি বহুমুখী হিমঘর তৈরি হলেও এখনও সেটা চালু হয়নি।
এ ছাড়াও আন্টিলায় মেদিনীপুর ক্যানেলের পাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়েএকটি পার্ক নির্মাণ হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে। এইসব সমস্যা থাকলেও রাস্তাঘাট পানীয় জল খাল সংস্কার-সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে বলেও দাবি বাসিন্দাদের।
তৃণমূল প্রার্থী অরুণাভ সেন বলছেন, ‘উন্নয়নের কাজ কোনওদিন থেমে থাকে না। গত ১৫ বছরে এলাকায় প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। আগামীদিনে আরও হবে। বিরোধীরা স্বপ্ন দেখছে। তাঁদের স্বপ্ন কোনওদিন বাস্তবায়িত হবে না।’ পাল্টা বিজেপি প্রার্থী প্রেমাংশু রানার দাবি, ‘এলাকায় ভালো হাসপাতাল নেই, নিকাশি ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। মানুষ এর বিরুদ্ধে ভোট দেবে।’ ভোট প্রচারে পিছিয়ে নেই সিপিএম প্রার্থী ভাস্কর রায়। তাঁর কথায়, ‘দীর্ঘদিন শাসক দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই করছি। এ বারেও লড়াইয়ের ময়দানে আছি।’