ভোর বেলায় কিছুক্ষণের কালবৈশাখী, আর তাতেই মাথায় হাত পড়ল বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষকদের। শনিবার ভোরে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ মহকুমার ঘটনা। রায়গঞ্জ ব্লকের জগদীশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় এ দিন ভোরে প্রবল ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার ভোর থেকে বিস্তীর্ণ এলাকায় আচমকা কালবৈশাখী দেখা দেয়। প্রবল ঝড় এবং সঙ্গে চলে শিলাবৃষ্টি। এর জেরে গরমে প্রভাব কিছুটা কমলেও ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দেয় রায়গঞ্জ ব্লকে। ওই পঞ্চায়েতের জগদীশপুর, গোবিন্দপুর, পাঁচভায়া, হালালপুর, সরিয়াবাদ, মদনপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতি হয়েছে। একদিকে যেমন ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে, অন্যদিকে বিস্তীর্ণ এলাকার জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। বিঘার পর বিঘার ভুট্টা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ঋণ নিয়ে জমি চাষ করার পরে ফসল নষ্ট হওয়ায় মাথায় হাত কৃষক পরিবারগুলির। বিভিন্ন এলাকায় ছিঁড়ে পড়েছে বিদ্যুতের তার। বহু বাড়ির টিনের, খড়ের চাল উড়ে গিয়েছে। শনিবার ভোর ৬টা ১০ থেকে ৬টা ৪০ পর্যন্ত ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে, সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। কালবৈশাখীর প্রভাব পড়েছে ইটাহার, রায়গঞ্জ, হেমতাবাদ ও করণদিঘি ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায়।
গ্রামবাসী পিন্টু মহম্মদ বলেছেন, ‘ঝড়-বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ভেঙেছে। জমির ভুট্টা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমার সাড়ে তিন বিঘা জমির ভুট্টা পুরো নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ওখানেই লাখ খানেক টাকার ক্ষতি।’ গ্রামবাসী জাহাঙ্গির আলম বলেছেন, ‘চাষের খুব ক্ষতি হয়েছে। রাস্তার ধারে গাছ ভেঙেছে। এখন নির্বাচন, প্রশাসনের কেউ আসেনি।’ যা ক্ষতি হয়েছে, প্রশাসন থেকে সাহায্য মেলার দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। ২ নম্বর জগদীশপুরের উপপ্রধান জিয়াতুল হক বলেছেন, ‘প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। ফসল পুরো নষ্ট। যেখানে ঝড় হয়েছে, সেখানে সব ফসল নষ্ট। শিলাবৃষ্টিও হয়েছে, তাতেও ক্ষতি হয়েছে।’