ভারতীয় গণতন্ত্রে বেনজির ঘটনা! জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে এসে নাম করে বিরোধী দলগুলিকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংসদ ভবনে ‘নারীশক্তি বন্দন’ অধিনিয়ম পাশ করাতে না পারার দায় বিরোধীদের উপর চাপিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলে গেলেন, “নারীশক্তির বিরোধিতার পাপ থেকে মুক্তি পাবে না বিরোধীরা। কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টির মতো দলকে সেটার শাস্তি পেতেই হবে।”
একদিন আগেই সংসদে নারীশক্তি বন্দন অধিনিয়ম পাশ করাতে পারেনি কেন্দ্র। সংবিধান সংশোধনী আইন পাশ করানোর সংখ্যা সরকারের হাতে ছিল না। এই বিলের আড়ালে থাকা আসন পুনর্বিন্যাসের চেষ্টাকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসাবে উল্লেখ করে সেটিকে সমর্থন করেনি বিরোধীরাও। সব মিলিয়ে সংশোধনী আইনটি পাশ হয়নি। যার দায় বিরোধীদের উপর চাপিয়ে মোদি বললেন, “নারীশক্তি বিল আটকে বিরোধীরা যে ভুল করল, তার জন্য দেশের নারীরা তাদের কখনও ক্ষমা করবেন না। মেয়েরা সব ভুলতে পারে, অপমান ভুলতে পারে না।”
নাম করে করে কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টির মতো দলকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রীর তোপ, “গণতন্ত্রের কাছে লজ্জা। নারীর সমর্থনে বিল পেশ করা হল। কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূলের মতো দলগুলি এর বিরোধিতা করল। এই বিল কেবল প্রস্তাব ছিল না, এই বিল ছিল নারীর আত্মসম্মানের প্রশ্ন।” মোদির তোপ, “সকলকে একত্রিত করার প্রচেষ্টা ছিল এই বিল। নারীশক্তি বন্দন সংশোধন উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম সব রাজ্যেকে শক্তিবৃদ্ধির প্রয়াস ছিল। সমান অনুপাতে শক্তিবৃদ্ধির কৌশল ছিল এই বিল। এই প্রয়াসটাকে গোটা দেশের সামনে গণহত্যা করে দিল কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূল।” রীতিমতো কড়া ভাষায় প্রধানমন্ত্রী এই বিল সমর্থন না করার সঙ্গে ভ্রুণহত্যার তুলনা করলেন।
মোদির তোপ, “ঐতিহাসিকভাবেই কংগ্রেস নারী ক্ষমতায়নের বিরোধী। প্রতিবার কোনও না কোনও অজুহাত তুলে এরা এই বিলের বিরোধিতা করে এসেছে। ওদের কাছে সুযোগ ছিল, নিজেদের ইতিহাস বদলানোর। কিন্তু সেই সুযোগ ওরা হাতছাড়া করল। কংগ্রেস আরও একবার প্রমাণ করল ওরা সংস্কার বিরোধী, মহিলা বিরোধী। সুকৌশলে বিভাজনের রাজনীতির চেষ্টাও করল হাত শিবির।” কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদায় বসে এভাবে জাতীয় পতাকাকে পিছনে রেখে বিরোধীদের নাম করে নিশানা করতে পারেন কি প্রধানমন্ত্রী?