• মালদহে ত্রিমুখী লড়াই! কে পাবে সংখ্যালঘু মন, নূরের আগমনে বদলাবে মালতিপুরে ‘মৌসম’?
    প্রতিদিন | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ভোট (West Bengal Assembly Election) এলেই রাস্তায় ধুলো উড়িয়ে ছুটে যেত ‘জগদ্দল’। ভিতরে থাকতেন ‘বড় সাহেব’। গাড়ি থামিয়ে লোকজনকে জিজ্ঞেস করতেন, ‘ভোট দিবি তো আমায়?’ ব্যাস ওটুকুই! শেষবার সম্ভবত ২০০৬ সালে জগদ্দলকে রাস্তায় দেখেছিল মানুষজন। তারপর পেরিয়ে গিয়েছে প্রায় দুই দশক। না থেকেও রয়েছেন ‘বড় সাহেব’ গনি খান চৌধুরী। যথারীতি সময়ের চাকা ঘুরে এসেছে আরও একটি বিধানসভা ভোট। চলছে প্রচারের সুনামি। তবে ধুলোমাখা জগদ্দল এখন কোতোয়ালি ভবনের গ্যারেজে ঘুমন্ত। এবিএ গনি খান চৌধুরীর প্রিয় গাড়ি ছিল এই মার্সিডিজ বেঞ্জ। স্থানীয় মানুষজনের কাছে সেটিই জগদ্দল বলে পরিচিত। আর মালদহের উন্নয়নের কাণ্ডারী কংগ্রসের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, নেতা প্র‍য়াত বরকত গনি খান চৌধুরী।

    গত বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ১২টি আসনের মধ্যে আটটিতেই জয়ী হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি জেতে চারটি আসনে। তবে লোকসভা ভোটে বড় ধাক্কা খায় তৃণমূল। জেলার দুটি লোকসভা আসনের একটিতে জেতে বিজেপি। অন্যটি যায় কংগ্রেসের ঝুলিতে। জাতীয় কংগ্রেসের আদি গড় এই জেলা। কিন্তু গত কয়েক বছরে কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ধরেছে। কিন্তু এবার কংগ্রেস ভালো ফল করার প্রত্যাশী। এবার গনি মিথ কি কাজ করবে আমের জেলায়? নাকি সেই আবেগ থেকে অনেক আগেই বেরিয়ে এসেছে মালদহের মানুষ? মালদহের কোতোয়ালি ভবনের তেমন গুরুত্ব কি নেই ভোটে?

    স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, কোতোয়ালি ভবনের প্রভাব নতুনদের মধ্যে এখন আর কোথায়? জেলায় কংগ্রেসের তেমন আর ভূমিকা নেই। বিজেপি লড়াইয়ের দৌড়ে অনেকটাই উপরে উঠে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেস যথেষ্ট প্রভাবশালী। মালদহ টাউনের বাসিন্দা এক ব্যক্তি বলেন, বরকত সাহেব জীবিত থাকার সময় গোটা মালদহ জেলাতেই তাঁর প্রভাব ছিল। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরেই চিত্র বদলাতে থাকে। কংগ্রেস কি এবার বেশ কিছু আসন জেলায় পাবে? প্রশ্ন শুনে কিঞ্চিত মাথা নাড়ালেন ওই ব্যক্তি। সেটা হ্যাঁ নাকি না! বোঝা দুস্কর। 

    উত্তরবঙ্গের মালদহ জেলা একসময় কংগ্রেসের গড় ছিল। গনি খান চৌধুরী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। কংগ্রেসের দাপট গোটা জেলাতে ছড়িয়েছিল বাম জমানাতেও। কিন্তু গত পাঁচ-সাত বছরের রাজনীতিতে কংগ্রেস কার্যত কোণঠাসা হয়েছে, এমনই মত রাজনীতিকদের। ২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ও পরবর্তীকালে বিজেপি ভোটবাক্সে ভালো ফল করে জেলায় প্রভাব বিস্তার করেছে। এবারের ভোটে একাধিক ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে চর্চায় এনে ফেলেছে মালদহকে। এসআইআরে নাম বাদ যাওয়ার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালদহ। বিচারকদের আটকে রেখে হামলার অভিযোগ ওঠে এই জেলার মোথাবাড়িতে। সেই মোথাবাড়ি কাণ্ডের তদন্ত করছে এনআইএ।

    তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবারও একাধিক জনসভায় জেলার মানুষকে তাঁর ওপর ভরসা করতে অনুরোধ করেছেন। আম ও আমসত্ত্ব খাওয়ানোর কথা আবদারের ভঙ্গিমাতে বলেছেন তিনি। এবার কি ‘দিদি’র কথা সাধারণ মানুষ রাখবে? নাকি অন্য শিবিরে ভোট যাবে? সেই প্রশ্ন থাকছে। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন মৌসম বেনজির নূর। নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে তিনি ফের কংগ্রেস শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এই মুহূর্তে মালতিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেসের প্রার্থী তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৌসমকে ভোটের প্রচারে গিয়ে নাম না করে আক্রমণও করেছেন। “কংগ্রেস এবার জেলায় ভালো ফল করবে। গতবারের থেকে বেশি আসন পাবে।” এমনই দাবি করেছেন মৌসম বেনজির নুর। 

    জেলার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্র সংখ্যালঘু ভোটার অধ্যুষিত। মূলত সেই ভোটব্যাঙ্ক আগে কংগ্রেসের দিকে ছিল। গত বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) সময় সেটি যায় তৃণমূলের দিকে। তবে চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে সেই ভোট আবার কংগ্রেসের ঘরে ফেরে। এবার কী হবে? সুজাপুর, মোথাবারি, কালিয়াচক, চাঁচল, রতুয়ার সংখ্যালঘু ভোট কার ঝুলিতে যাবে? সেই প্রশ্ন এখন চর্চায়। এসআইআরের কারণে মালদহে মোট বাদ পড়েছে প্রায় ৪ লক্ষ ৬০ হাজার ভোটারের নাম। এর মধ্যে বেশিরভাগই মহিলাদের। এসআইআরের কারণে একাধিক কেন্দ্রেই ফল ওলটপালট হওয়ার আশঙ্কাও থাকছে। ফলে বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে কি ধাক্কা খাবে? সেই হিসেবও করছে গেরুয়া শিবির। 

    জেলার রাজনীতি…

    গৌড়বঙ্গের ইতিহাস সুপ্রাচীন। জেলার একদিক দিয়ে বয়ে গিয়েছে গঙ্গা। অন্য পাশে বয়ে চলেছে ফুলহার নদী। রাজ্য রাজনীতিতে মালদহ সময়ের সঙ্গে অনেক উত্থান-পতন দেখেছে। একসময় কংগ্রেসের অন্যতম ঘাঁটি ছিল উত্তরবঙ্গের এই জেলা। বামেরা সেভাবে কংগ্রেস গড়ে দাগ কাটতে পারত না। ২০১১ সালে বাম জমানার পতনের পর জেলার রাজনীতিতেও বদল হয়েছে একাধিক। গত ১৫ বছরে গঙ্গা, ফুলহার নদী দিয়ে বহু জল বয়ে গিয়েছে। এই দুই নদীর ভাঙনে জেরবার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষজন। বসতবাড়ি থেকে চাষের জমি তলিয়ে গিয়েছে নদীগর্ভে। রাজনৈতিক নেতাদের মত, প্রায় একইভাবে কংগ্রেসের থেকে হাতছাড়া হয়েছে এই জেলার রাজনীতির ব্যাটন। 

    তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর এই জেলাতে কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন হয়। কংগ্রেস ছেড়ে জেলার বহু নেতা-নেত্রী তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা ধরেন। রাজ্যের মন্ত্রীও হয়েছেন অনেকে। একসময় কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে গিয়েছিলেন গনি খানের ভাগ্নি মৌসম বেনজির নূর। তৃণমূলের টিকিটে তিনি রাজ্যসভার সাংসদও হন৷ কংগ্রেস থেকে জোড়াফুলে যান জেলার দাপুটে নেতা কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী, সাবিত্রী মিত্ররা। কৃষ্ণেন্দু ভোটে জিতে মন্ত্রী হয়েছেন। সাবিত্রীও গতবারের রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী। যদিও এবার শাসক দল এই দুই হেভিওয়েটকে টিকিট দেয়নি। 

    অচিরে বিজেপিও এই জেলায় নিজেদের শক্তি বাড়াতে থাকে। ওয়াকিবহাল মহলের মত, বামেদের ভোট ধীরে ধীরে বিজেপির ঝুলিতে যায়। সিপিএমের তাবড় নেতা, সাংসদ খগেন মুর্মু বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মালদহ উত্তর কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন। গত লোকসভা নির্বাচনেও তিনি জয়ী হন। বিজেপি জেলায় যথেষ্ট শক্তি বাড়িয়েছে বলে মত রাজনীতিবিদদের৷ গত লোকসভা আসনে জেলায় প্রায় ৩৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে তারা৷ সেই ভোটব্যাঙ্ককে এবার বিধানসভা নির্বাচনে আরও বাড়াতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। খগেন মুর্মু জানিয়েছেন, এবার মালদহে অনেক বেশি আসনে পদ্ম ফুটবে। তৃণমূল আর কংগ্রেসের প্রভাব জেলায় আর তেমন থাকবে না। 

    তৃণমূল নেত্রী সাবিত্রী মিত্র জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে উন্নয়ন রাজ্যে করছেন, তার শরিক মালদহও। রাজ্যের একাধিক প্রকল্পে সাধারণ মানুষ উপকৃত। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার গ্রামের মহিলাদের মনোবল বাড়িয়েছে। তৃণমূল এবার অনেক আসনে জয়ী হবে। কৃষ্ণেন্দুর কথায়, এসআইআর করে সাধারণ মানুষের ভোট কেটে বিজেপি জেলায় জিততে পারবে না। এবার মানুষ তৃণমূলের সঙ্গে আছে। এসআইআরে জেলার ভোটে কতটা প্রভাব ফেলবে এবার? গতবারে অনেক আসনে জয়ের ব্যবধান ছিল অনেকটাই কম। এসআইআরের কারণে সেসব কেন্দ্রে হিসেব এবার অদলবদল হয়ে যাবে না তো?

    তবে কংগ্রেস বিজেপি ও তৃণমূলের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। গত লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ মালদহ কেন্দ্রে কংগ্রেসের ইশা খান চৌধুরী জিতে সাংসদ হন। বাংলা থেকে ওই একটি আসনই কংগ্রেস জিতেছিল। তবে সেবার বাম ও কংগ্রেসের জোট ছিল। এবার বাংলায় জোট হয়নি। কংগ্রেসে গনির ভাগ্নি ফিরে এসেছেন। মৌসমকে মালতিপুর কেন্দ্রে টিকিটও দিয়েছে দল। এবার জেলায় কংগ্রেস অনেক ভালো ফল করবে, আশাবাদী মৌসম নিজেও।

    এবারের নির্বাচনে নজরকাড়া প্রার্থী…

    মালদহে এবার ভোটে একাধিক সাপলুডো খেলা রয়েছে। ভোট ব্যাঙ্কের সামান্য এদিক-ওদিক হলেই উলটে যেতে পারে ফল। এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ। জেলায় তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেসের ত্রিমুখী লড়াই হবে অনেক আসনে। এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কংগ্রেসও একাধিক আসন জয়ের জন্য মরিয়া। এবার বাম কংগ্রেস জোট হয়নি জেলায়। ফলে সিপিএম আলাদা লড়াইয়ে রয়েছে। একসময়ের শক্তিশালী ঘাঁটি থেকে বামেরাও আসন জেতার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের কারণে জেলায় হুমায়ুন কবিরের আমজনতা উন্নয়ন পার্টিও ভোটে লড়াই করছে। 

    তথ্য বলছে, ২০২৪ লোকসভা ভোটের নিরিখে জেলায় ৬টি আসনে বিজেপি এগিয়ে। বাম-কংগ্রেস জোট থাকলে ৬টি আসনে জেতার সম্ভাবনা থাকবে। এবারের মালতিপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের আবদুর রহিম বক্সি প্রার্থী। কংগ্রেস প্রার্থী করেছে মৌসম বেনজির নুরকে। সুজাপুর কেন্দ্রেও কংগ্রেস ও তৃণমূলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে খবর। ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন। কংগ্রেস প্রার্থী করেছে আবদুল হান্নানকে। বাম সমর্থিক আইএসএফের প্রার্থী মহম্মদ কারিমুল্লাহ হক। মানিকচক সাবিত্রী মিত্রর এলাকা। কিন্তু তৃণমূল তাঁকে টিকিট দেয়নি। প্রার্থী করা হয়েছে কবিতা মণ্ডলকে। ওই কেন্দ্রে কংগ্রেস করেছে আনসারুল হককে। মোথাবাড়ি কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী নজরুল ইসলাম। বিজেপি প্রার্থী করেছে নিবারণ ঘোষকে। সাইম চৌধুরীকে কংগ্রেস প্রার্থী করেছে। জেলার দুঁদে নেতা কৃষ্ণনারায়ণ চৌধুরীকে এবার প্রার্থী করেনি তৃণমূল। সাবিত্রী ও কৃষ্ণনারায়ণ চৌধুরীর ক্ষোভও ছিল। তবে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের সঙ্গে কথা বলার পর ফের দু’জনেই ময়দানে প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করছেন।

    এবারের ভোটে ইস্যু….

    মালদহ জেলায় ভোটের ক্ষেত্রে একাধিক ইস্যু রয়েছে। চাঁচল, হবিবপুর, রতুয়া, মানিকচক, বৈষ্ণবনগর বিভিন্ন এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে বহু নাম বাদ গিয়েছে। জেলায় প্রায় ৪৯ শতাংশ মহিলা ভোটার। এসআইআর কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মহিলাদের নাম বাদ গিয়েছে বলে অভিযোগ। মালদহে প্রচারে এসে তৃণমূল নেত্রী বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভও উগড়ে দিয়েছেন। বেছে বেছে মহিলাদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচন কমিশন বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছে। সেই অভিযোগ করেছেন তিনি। এত নাম বাদ দিলে ভোট দেবে কে? সেই প্রশ্ন তৃণমূল সুপ্রিমো সভামঞ্চ থেকে করেছেন।

    পরিযায়ী শ্রমিক এই জেলার একটি বড় ইস্যু। ফি বছর গুজরাট, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, কেরল-সহ একাধিক রাজ্যে মালদহ থেকে লক্ষ লক্ষ তরুণ-যুবকরা পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজে যান। বাংলায় শ্রমিকের মজুরির পরিমাণ কম, কাজের পরিমাণও কম থাকে! তুলনায় ভিনরাজ্যে কাজ, মজুরি অনেকটাই বেশি। রাজ্যে সরকার বদল হলে জেলায় ফের কর্মসংস্থান হবে, এমনই প্রচার চালাচ্ছে বিজেপি। পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও নিবিড় জনসংযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে গেরুয়া শিবির। পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট এবার যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ শাসক-বিরোধী সব শিবিরেই। সে কারণে বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেস সব দলই পরিযায়ী শ্রমিক ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের দিকে আনতে মরিয়া। 

    ভিনরাজ্যে বাংলাদেশি সন্দেহে জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের ঘটনাও শাসক দলের প্রচারে উঠে এসেছে। বিজেপিশাসিত রাজ্যে মালদহের যুবকদের উপর অত্যাচার জোর করে বাংলাদেশি দাগিয়ে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেওয়ার একাধিক বিষয় তৃণমূলের প্রচারে উঠে আসছে। বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল এই ইস্যুতে ধারাবাহিক প্রচার করছে। ভিন রাজ্যে বাংলার যুবকদের উপর অত্যাচার হচ্ছে! বাংলায় বিজেপি জিতলে এখানকার মানুষদের কী হবে? সেই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে তৃণমূলের সভা-মিছিলে। বাঙালিদের উপর অত্যাচার বিজেপিকে কিছুটা কোণঠাসা করছে। একথা দলের কর্মী-সমর্থকরাও মেনে নিয়েছেন।

    জেলায় রেশম শিল্প ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা। বহু মানুষ শ্রমিক হিসেবে এই শিল্পে কাজ করতেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে বাংলার রেশমের চাহিদা কিছুটা কমেছে। এদিকে মজুরি কম বলে তরুণরা বাইরে চলে যাচ্ছেন। শ্রমিক না পাওয়ায় কাজেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। রেশম শিল্পকে আরও উন্নত করতে প্রচার চালাচ্ছে বিজেপি-তৃণমূল। এক ব্যবসায়ীর কথায়, “রেশম চাষে ঘাটতি হচ্ছে। ব্যবসা সেভাবে বাড়ছে না। ফলে রাজনৈতিক প্রচারে যাই থাকুক না কেন, দিন খুব একটা বদলাবে না।” 

    জেলার অন্যতম বড় সমস্যা নদী ভাঙন। গঙ্গা ও ফুলাহার নদীর ভাঙনে গত দুই দশকে বিস্তীর্ণ অঞ্চল নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। রতুয়া, মানিকচক, বৈষ্ণবনগর, হরিশ্চন্দ্রপুর-সহ একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে এই ভাঙন প্রতি বছর মানুষকে আতঙ্কে ফেলে। হাজার হাজার মানুষ নিজেদের ভিটেমাটি, জমি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বর্ষাকাল এলেই নদীপাড়ের মানুষজন আতঙ্কে থাকেন। ভাঙনের কারণে বহু মানুষের কাগজপত্র হারিয়ে গিয়েছে। প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রেই নতুন পরিচয়পত্র করে দিয়েছে ঠিকই। তবু আতঙ্ক কমানো যায়নি। 

    তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এই জেলার দীর্ঘদিনের সমস্যা। মালদহ টাউনে গত বছর প্রকাশ্যে গুলিতে খুন হয়েছিলেন নেতা দুলাল সরকার। ওই ঘটনায় এলাকারই একাধিক তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার হয়৷ এই খুনের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন৷ দলের মধ্যে কোনওরকম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনকেও দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দলের মধ্যে একাধিক গোষ্ঠীর ক্ষমতা দখল, ধরে রাখার লড়াই তৃণমূলকে সমস্যা ফেলেছে। এই ভোটেও তেমন কোনও অন্তর্ঘাত হবে না তো?

    এবারের ভোটে কংগ্রেস একাধিক আসন জিততে মরিয়া। মৌসম বেনজির নূর মালতিপুর কেন্দ্রে জোরদার প্রচার করছেন। ওই আসনে এবার জয়ের প্রবল সম্ভাবনা বলে মনে করছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। অতি সম্প্রতি বরকত সাহেবের ভাই আবু হাসেম খানি চৌধুরী (ডালুবাবু) মারা গিয়েছেন। গনি খানের কবরের পাশেই ডালুবাবুর দেহ কবরস্থ করা হয়। ডালুবাবুও দীর্ঘ সময় কংগ্রেসি রাজনীতির মুখ ছিলেন। ডালুবাবুর চলে যাওয়া জেলার কংগ্রেস কর্মী-নেতাদের মধ্যেও আবেগকে উসকে দিয়েছে। ডালুবাবুর জন্যই এবার জেলায় ভালো ফল করতে প্রত্যাশী কং শিবির। কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী জানিয়েছেন, এবার কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা একজোট হয়ে লড়াই করছেন। ভালো ফল হবেই।
  • Link to this news (প্রতিদিন)