দফায় দফায় আলোচনা করে চূড়ান্ত হয়েছে আসন সমঝোতা, ঠিক হয় প্রার্থীও। কিন্তু এরপরেও বারাসতে জোটে জট। প্রকাশ্যে বিদ্রোহ! ফরোয়ার্ড ব্লকের জন্য ছাড়া আসনে নির্দল হয়ে লড়াইয়ে নেমেছেন আইএসএফ কর্মী জাহাঙ্গীর আলি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় আর ফেরার পথ নেই। ফলত নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) আগে জোটের সমীকরণেই সরাসরি ধাক্কা, নিজেদের প্রার্থীকে নিয়ে রীতিমতো চাপে জেলা আইএসএফ নেতৃত্ব। এই অবস্থায় যদিও জাগাঙ্গীর আলিকে শোকজ নোটিস পাঠালেন জেলা নেতৃত্ব। এমনকী উত্তরে খুশি না হলে জাগাঙ্গীর আলির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত।
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোট রয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে আগামী ২৯ এপ্রিল। এবার বারাসত বিধানসভা কেন্দ্রে ফরোয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী হেমন্ত দাস। সেই আসনেই আইএসএফ কর্মী জাহাঙ্গীর আলি নির্দল হয়ে লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন। একেবারে দলীয় লাইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই তাঁর এই অবস্থান বলে দাবি আইএসএফের একাংশ। সংগঠনের ভিতরে প্রশ্ন উঠছে সমন্বয় নিয়েই, অস্বস্তি ছড়িয়েছে জোটের অন্দরেই।
এই অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবার জাহাঙ্গীর আলিকে শোকজ নোটিশ পাঠায় আইএসএফ। তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না মিললে নেওয়া হবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা। কিন্তু নির্দল হয়ে ভোটের ময়দানে নামলে সেক্ষেত্রে ভোট কাটাকাটির একটা বড় আশঙ্কা থাকছে বলেই দাবি রাজনৈতিকমহলের।
বলে রাখা প্রয়োজন, এর আগেও মধ্যমগ্রাম কেন্দ্রে জোটের ফাটল সামনে এসেছিল। সেখানে আইএসএফ প্রার্থী দেওয়ায় ক্ষোভ দেখিয়েছিল ফরোয়ার্ড ব্লক। পরে তারাও পাল্টা প্রার্থী দেয়। সেই টানাপোড়েন থামার আগেই বারাসতে নির্দল লড়াই নতুন করে চাপ বাড়াল জোটে। এনিয়ে আইএসএফের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সহ সভাপতি মহম্মদ জামির হোসেন বলেন, “এটা ওনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। জাহাঙ্গীর আলিকে শোকজের চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে। আমরা জবাবের অপেক্ষায় রয়েছি।”