দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটে যতই ফাটল ধরানোর চেষ্টা হোক, বাংলার নির্বাচন ঘিরে কেন্দ্রবিরোধী সেই জোট কিন্তু ফের শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত মিলল। আদিবাসীদের সমর্থন ভোটবাক্সে প্রতিফলনের চেষ্টায় এবার জঙ্গলমহলে প্রচার করতে এলেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী তথা ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো হেমন্ত সোরেন। শনিবার পুরুলিয়ার কাশীপুর, মানবাজার ও বান্দোয়ানে তিন তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে জনসভা করেন তিনি। বিজেপি বিরোধী ‘কঠিন’ লড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে লড়ছেন, তা গোটা দেশের কাছে দৃষ্টান্ত বলে তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করলেন হেমন্ত সোরেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আদিবাসী উন্নয়নে বাংলায় যেসব প্রকল্প রয়েছে, তা মডেল। আমি চেষ্টা করব ঝাড়খণ্ডে এসব বাস্তবায়িত করার।” প্রথম দফা ভোটের আগে আদিবাসী অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলিতে হেমন্ত সোরেনের প্রচার তৃণমূলকে কিছুটা এগিয়ে দিল, তা বলাই যায়।
একসময়ে ঝাড়খণ্ড ছিল বিজেপি শাসিত। পরে জনমতের ভিত্তিতে তাদের থেকে রাজ্যের ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয় বিরোধী ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা। বিজেপির শাসনে রাজ্য কেমন ছিল, আর আজ কেমন আছে, তার তুলনা করে বিজেপি বিরোধী অস্ত্রে শান দেবেন সোরেন, এমনই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু নির্বাচনী জনসভায় তার চেয়ে ঢের বেশি সুর চড়ালেন প্রতিবেশী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার কাশীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ধানাড়া ফুটবল মাঠে তৃণমূল প্রার্থী সৌমেন বেলথরিয়ার সমর্থনে সভা করে হেমন্ত সোরেন বলেন, ‘‘বাংলায় তো বিজেপি নির্বাচন লড়ছে না, লড়ছে নির্বাচন কমিশন। গোটা দেশে যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকে, শুধু বাংলাতেই তা হয়েছে। আসলে রাজা যদি বণিক হয়, তাহলে প্রজারা তো ভিখারি হবেই। এখন আমাদের দেশে বণিক হয়েছে রাজা আর তার বন্ধুত্বও বণিকদের সঙ্গেই। এই বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তা গোটা দেশ দেখছে। আমি মমতাদির পাশে দাঁড়াতে এসেছি।”
দ্বিতীয় সভাটি হয়েছে মানবাজারের লাখড়ায় বদরা ফুটবল মাঠে তৃণমূল প্রার্থী সন্ধ্যারানি টুডুর সমর্থনে জনসভায় প্রাসঙ্গিকভাবেই হেমন্ত সোরেন উল্লেখ করেন এসআইআরের কথা। তিনি বলেন, ‘‘এখানে তো প্রায় ৯১ হাজার নাম বাদ পড়েছে। কীভাবে বাদ পড়ল, সে বিষয়ে বাদ পড়ল, বোঝা গেল না। জল, জঙ্গল, জমি শেষ করে দিয়েছে বিজেপি। আদিবাসীরা কোথায় যাবে? আদিবাসীদের কথা কেউ ভাবে না। কিন্তু মমতাদি তাঁদের কাছে টেনে চোখের জল মুছিয়ে দেন। বিজেপির শুধু মুখে রাম-নাম, হাতে ছুরি। ইডি, সিবিআই দিয়ে ভয় দেখানো হয়। কিন্তু আপনারা ভয় পাবেন না। নির্ভয়ে ভোট দিন।” তৃতীয় সভাটি তিনি করেন বান্দোয়ানের আঁকড়ো ফুটবল মাঠে, প্রার্থী রাজীবলোচন সোরেনের সমর্থনে। একদিনে তিন সভা করার জন্য তাঁকে পালটা ধন্যবাদ জানিয়েছে তৃণমূল।