‘মানুষের প্রাণ নিয়ে খেলা! জেলে ঢোকানো উচিত’, পাণ্ডুয়ার বিজেপি প্রার্থীকে ‘ভুয়ো ডাক্তার’ বলে তোপ অভিষেকের
প্রতিদিন | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম দফার ভোটের বাকি আর কয়েকটা দিন! আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচন। তার আগেই প্রচারে ঝাঁঝ বাড়াচ্ছে শাসক-বিরোধী সবদলই। সেই মতো আজ, শনিবার হুগলির পাণ্ডুয়ায় তৃণমূল প্রার্থী সমীর চক্রবর্তীর সমর্থনে সভা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই সভা থেকেই বিজেপি প্রার্থী তুষার মজুমদারকে তীব্র কটাক্ষ করলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ‘ভুয়ো’ চিকিৎসক বলে জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলেও দাবি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের। যদিও এহেন অভিযোগ, মিথ্যা বলে পালটা দাবি বিজেপি প্রার্থীর।
এবার হুগলির পাণ্ডুয়া বিধানসভায় সমীর চক্রবর্তীকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তাঁর প্রচারে গিয়েই এদিন অভিষেক আরও বলেন, ”ধনেখালিতে তুষার মজুমদার দাঁড়িয়েছিলেন। অসীমা পাত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ৩১ হাজার ভোটে হেরেছিলেন। তাঁকেই এবার পান্ডুয়ায় ঠেলে দিয়েছে।” তাঁর কথায়, ”এরপর মনে পড়ল এর আগে এ তো জালিয়াতি করে ডাক্তার তুষার মজুমদার লিখতেন। ডাক্তার এখন আর লেখেন না। এমন একটা লোককে প্রার্থী করে পাঠিয়েছে, যিনি হাতুড়ে ডাক্তার।”
শুধু তাই নয়, বিজেপি প্রার্থীকে আক্রমণ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ”তাঁর সঙ্গে পাণ্ডুয়ার কোনও সম্পর্কই নেই। ২০২১ সালে ধনেখালি থেকে দাঁড়িয়েছিলেন। পরবর্তীতে দুর্নীতির অভিযোগে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যা তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা এবং গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে।”
‘ভুয়ো’ চিকিৎসক প্রসঙ্গে তুষার মজুমদারকে সরাসরি তোপ দেগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আরও বলেন, ”এঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়ে জেলে ঢোকানো উচিত। কত মানুষের প্রাণ নিয়ে ছেলেখেলা হয়েছে। ভুয়ো ডাক্তার। তিনি আবার এখানে দাঁড়িয়েছেন, মানুষের ভোট চাইতে।” তাঁর কথায়, কোভিডের সময় বিপদে আপদে যাঁদের পাওয়া যায় না, তাঁদের পান্ডুয়ার মাটিতে কোনও জায়গা নেই। একদিকে ভুয়ো চিকিৎসক ইস্যুতে বিজেপি প্রার্থীকে তোপ, অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী সমীর চক্রবর্তীর ভূয়সী প্রশংসা শোনা যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে।
এদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে মুখ খুলেছেন বিজেপি প্রার্থী তুষার মজুমদার। তাঁর দাবি, মিথ্যা অভিযোগ করে কোনও লাভ হবে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ”আপদে বিপদে পাণ্ডুয়ার মানুষের কাছে আমি থাকব। উনি থাকবেন না। ফলে কী বললেন তাতে কিছু যায় আসে না আমার।”