• ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী ৭৫ হাজার লাঠি কিনেছে...’, তৃণমূল নেতাদের ‘সেঁকে’ দেওয়ার নিদান সুকান্তর
    এই সময় | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • পাঁচ দিন পরেই প্রথম দফার (West Bengal Assembly Election 2026) ভোট। গোটা রাজ্য জুড়ে টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces)। শনিবার তাঁদের কাছে ‘তৃণমূল কর্মীদের পিঠ ভেঙে দেওয়ার’ অনুরোধ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। শনিবার বীরভূমের দুবরাজপুরের জনসভায় তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী ৭৫ হাজার লাঠি কিনেছে। তাঁদের বলব, ওগুলো দিয়ে তৃণমূল কর্মীদের পিঠ ভেঙে দিন।’ পাল্টা সুকান্তর মাথা বিগড়ে গিয়েছে বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল।

    দুবরাজপুরে অনুপ সাহাকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এ দিন তাঁর সমর্থনে জনসভা করেন সুকান্ত। সেখানে নির্বাচন কমিশন আর কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঢাল করে তৃণমূলকে একের পর এক তোপ দাগেন তিনি। সুকান্ত বলেন, ‘বাঘে ছুলে ১৮ ঘা, পুলিশে ছুলে ৩৬ ঘা আর নির্বাচন কমিশনে ছুলে ৫৬ ঘা।’ এর পরেই বাংলায় ভোটের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী ৭৫ হাজার লাঠি কিনেছে বলে দাবি করে সুকান্ত বলে দেন, ‘ওই ৭৫ হাজারের অর্ধেক যেন তৃণমূল নেতাদের পিঠে ভাঙা হয়, গুন্ডাদের পিঠে ভাঙা হয়। তবেই নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।’

    ফলপ্রকাশের পরে তৃণমূল নেতাদের উপরে যোগী স্টাইল চলবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। চড়া মেজাজে সুকান্ত বলেন, ‘তৃণমূলের ছাল ছাড়ানো বাঘ হোক, মোটা বাঘ, জেল ফেরত বাঘ, সব গুন্ডাদের বলছি, এখনও সময় আছে শুধরে যাও। না হলে ৫ তারিখে আমরা যোগী স্টাইলে শোধরানো শুরু করব।’ মহিলাদের অসম্মান করলে বাড়িতে বুলডোজ়ার যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

    এ দিন সভায় বাংলাদেশের হিন্দুদের কথাও তোলেন সুকান্ত। তাঁর পূর্বপুরুষও বাংলাদেশের বগুড়া থেকে এই দেশে এসেছিলেন জানিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নিজের স্ত্রীর ইজ্জত বাঁচাতে, নিজের ছেলের ধর্ম বাঁচাতে, বউয়ের সিঁথির সিঁদুর বাঁচাতে আমার ঠাকুরদা ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলায় চলে এসেছিলেন। আপনারা কোথায় যাবেন?’ কাজল শেখের নামও নেন। সুকান্তর কথায়, ‘কাজল শেখের ভয়ে পালাবেন, অমুক শেখের ভয়ে পালাবেন, পালাতে পালাতে তো দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। এ বার শেখদের সেঁকে দিন।’

    পাল্টা সুকান্তর মাথা বিগড়ে গিয়েছে বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আগে ভাবতাম তিনি ভদ্র, শিক্ষিত লোক। এখন দেখছি, নির্বাচনের আগে তাঁর মাথাটা বিগড়ে গিয়েছে। তাই অসংসদীয় কথাবার্তা বলছেন।’ সুকান্তকে নিজের পদমর্যাদাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। মলয়ের কথায়, ‘তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এটা তাঁর মনে রাখা উচিত।’

  • Link to this news (এই সময়)