• ‘পতন শুরু হলো মোদী সরকারের’, কেন্দ্রকে নিশানা মমতার
    এই সময় | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: বিস্তর টানাপড়েনের পরে শুক্রবার লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত তিনটি সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। লোকসভায় এনডিএ সরকারের এই পরাজয়ের মধ্যে দিয়েই দেশে মোদী জমানার পতনের সূচনা হলো বলে মনে করছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তাঁর পর্যবেক্ষণ, দিল্লিতে মোদী সরকার চন্দ্রবাবু নাইডু ও নীতীশ কুমারের সমর্থনের উপরে টিকে আছে এবং এই সমর্থন প্রত্যাহার হলেই সরকার পড়ে যাবে। শুধু মমতা নন, গত ১২ বছরে এই প্রথম মোদী সরকার সংসদে কোনও সংবিধান সংশোধনী বিল পাশে ব্যর্থ হওয়ার পরে কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

    লোকসভায় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করতে ব্যর্থ হওয়া মোদীর উদ্দেশে মমতা এ দিন হাওড়ার উলুবেড়িয়ার সভা থেকে বলেন, ‘মহিলা বিলের নামে লোকসভায় ৮৫০টি আসন করতে চেয়েছিল। ৫৪৩টি কেন্দ্রে জিততে পারবেন না, সেটা উনি জানেন। লোকসভা কেন্দ্রগুলো ভেঙে ভেঙে দেশকে ভাগ করতে চেয়েছিল। বঙ্গভঙ্গ করতে চেয়েছিল। এখানে নির্বাচন থাকা সত্ত্বেও আমি ২১ জন সাংসদকে পাঠিয়েছিলাম। আমরা কাল (শুক্রবার) বিজেপিতে পরাস্ত করেছি। মোদী সরকার হেরে গিয়েছে, মোদীর পতন শুরু হয়েছে।’ ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের সব সাংসদ যদি শুক্রবার লোকসভায় উপস্থিত থাকতে পারতেন, তা হলে মোদী সরকারের সঙ্গে বিরোধীপক্ষের শক্তির পার্থক্য যে খুবই অল্প, তা আরও প্রকট ভাবে ফুটে উঠত বলে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বক্তব্য।

    ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের পক্ষ থেকে সংসদে ভোটাভুটিতে তৃণমূলের অন্তত ২০ জন যাতে উপস্থিত থাকেন, তার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। সেই জায়গায় মমতা ২১ জন সাংসদকে দিল্লিতে পাঠান। মমতা দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের সভায় বলেন, ‘আমাদের আরও ৮ জন যেতে পারেননি। অন্য পার্টিগুলিরও ২০ জন আছেন, যাঁরা যেতে পারেননি। সব মেলালে কত হয়? সংখ্যালঘু সরকার দু’জনের সমর্থন নিয়ে দিল্লি চালাচ্ছে। যে দিন (সমর্থন) প্রত্যাহার করে নেবে...টুক টুক করে আগুন জ্বলছে। বিজেপি ধপাস হবে!’

    মোদী জমানায় এই প্রথম সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে গিয়ে হেরে যাওয়ার কারণেই প্রধানমন্ত্রী আচমকা শনিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে চেয়েছেন বলে মমতা মনে করছেন। নির্বাচনী প্রচারের সময়েই তৃণমূলনেত্রীর কাছে খবর আসে মোদী ভাষণ দেবেন। বারুইপুরের সভায় মমতা বলেন, ‘আজকে (শনিবার) শুনছি, উনি দেশের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ওঁর ভাষণ শুনে মানুষের রেশন মিলবে না। ওঁর ভাষণ মানে মিথ্যে ভাষণ। মিথ্যের ফুলঝুরি। জুমলা। কাল (শুক্রবার) থেকে পতন শুরু হয়েছে, তাই আজ (শনিবার) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। বাপরে কত বড় জাতির নেতা! দাঙ্গাকারী এখন দেশের নেতা, ভাবতে পারেন?’

    মোদী সরকার মহিলা সংরক্ষণের নাম করে আদতে ডিলিমিটেশন বিল পাশ করাতে চেয়েছিল বলে দাবি অভিষেকের। লোকসভায় মোদী সরকারের পরাজয় নিয়ে শুক্রবার অভিষেক এক্স হ্যান্ডলে দীর্ঘ পোস্ট করেছিলেন। শনিবার মুর্শিদাবাদের ফারাক্কায় রোড–শোয়ের শেষে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনী বিল এনেছিল এরা। মহিলা সংরক্ষণ বিল এটা নয়, মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ হয়ে গিয়েছে ২০২৩–এর সেপ্টেম্বরে। এটা ডিলিমিটেশন বিল ছিল। তৃণমূল দেখিয়ে দিয়েছে, বিজেপি চাইলেও সংবিধান আমরা পাল্টাতে দেবো না। ডিলিমিটেশনের নাম করে দেশভাগ করতে চেয়েছিল, লোকসভায় কাল (শুক্রবার) মুখ থুবড়ে পড়েছে।’ অভিষেক মুর্শিদাবাদের লালবাগের সভায় এ দিন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নারী সুরক্ষার প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী ও বিজেপি নেতৃত্ব মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে হইচই করলেও উত্তরপ্রদেশ–সহ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি নারী নিগ্রহের ঘটনায় শীর্ষে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অভিষেক।

    কংগ্রেস নেতৃত্বও মনে করছেন, এনডিএ সরকারের উপর থেকে জনতার ভরসাও ক্রমশ কমছে। প্রিয়াঙ্কা শনিবার দিল্লিতে দলীয় দপ্তরে বলেন, ‘দেশ ১২ বছর আগে যে পরিস্থিতিতে ছিল, এখন সেই পরিস্থিতি নেই। এরা (বিজেপি) বুঝতে পারছে না, ভারত বদলে গিয়েছে। এত প্রচার, অর্থের ব্যবহার আর কাজ করছে না। ওদের উপরে জনতার ভরসা চলে গিয়েছে।’ মহিলা সংরক্ষণকে ঢাল করে বিজেপি দিল্লিতে ক্ষমতায় টিকে থাকার যে ছক কষেছিল, তা শুক্রবার লোকসভায় পর্যুদস্ত হয়েছে বলে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের বক্তব্য। প্রিয়াঙ্কার কথায়, ‘এটা সরকারের কাছে প্রথম শক (ধাক্কা)৷ এই শক ওদের প্রয়োজন ছিল৷ এটা কেন্দ্রের জন্য কালো দিন। এমন ধাক্কা এই প্রথম ওরা খেলো। ওরা যে করে হোক ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ভাঙতে ও গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে সরকারের ষড়যন্ত্র পরাজিত হয়েছে।’

    মহিলা সংরক্ষণকে ঢাল করে ডিলিমিটেশন বিল পাশ করাতে পারলে বিজেপি এনআরসি করতে কোমর বেঁধে নামত বলেও তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছেন। মমতা এ দিন ভাঙড়ের সভায় বলেন, ‘সামনে ছিল মহিলা বিল, পিছনে ছিল বদ উদ্দেশ্য। বাংলাকে টুকরো করা, উত্তরপ্রদেশকে টুকরো করা, এরা টুকরে টুকরে গ্যাং। ডিলিমিটেশনের পরে এনআরসি করত। মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাত।’

  • Link to this news (এই সময়)