এই সময়: ভোট ভাগাভাগিতে বিজেপি, কংগ্রেস জিতে গেলে ফারাক্কা, সামশেরগঞ্জে এক বছর আগের পরিবেশ ফিরে আসতে পারে বলে সতর্ক করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনও ভাবে ভোট কাটাকাটি না করে জনতাকে শুধু জোড়াফুলে ছাপ দেওয়ার আহ্বান জানালেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা। অভিষেক শনিবার মুর্শিদাবাদের ফারাক্কায় রোড–শো’র শেষে এবং লালবাগে পরপর দুটি সভা করেন। ফারাক্কায় তিনি বলেন, ‘যদি বিজেপি জেতে তা হলে কী পরিবেশ তৈরি করবে ফারাক্কা– সামশেরগঞ্জের মানুষ তা জানেন। কংগ্রেস অসমে প্রধান বিরোধী দল হলেও এনআরসি যখন হয়েছে, তা রুখতে পারেনি। ১২ লক্ষ হিন্দু বাঙালি এবং ৭ লক্ষ মুসলিমকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা ২০২০–তে বলেছিলাম বাংলায় এনআরসি হতে দেব না এবং তা হতে দিইনি। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম যদি অমিত শাহ হয়, বাংলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’
‘সার’ নিয়ে কেন কংগ্রেসের কোনও মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে যাননি, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অভিষেক। মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস অথবা সিপিএমকে ভোট দেওয়া মানে সরাসরি বিজেপিকে ভোট দেওয়া বলে মনে করছেন তিনি। যদি কংগ্রেসের কোনও প্রার্থী জয়ী হয় তা হলে সেই নেতা বিজেপিতে গিয়ে গেরুয়া শিবিরের হাত শক্ত করবে বলেও অভিষেকের পর্যবেক্ষণ। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন,‘যাঁরা ভোট ভাগ করতে চাইছে তাঁরা বিজেপি–র এজেন্ট। যদি এঁরা বা বিজেপি–র কেউ জিতে যায়, কী হবে? কংগ্রেসের প্রার্থী কোনও মতে জিতে বিজেপিতে চলে গেলে কী হবে? গত পাঁচ বছরে তৃণমূলের কোনও বিধায়ক বিজেপিতে যায়নি। বরং বিজেপি–কে ভেঙে আমরা তৃণমূলে নিয়ে এসেছি।’
কংগ্রেসের সঙ্গে নিজের দলের পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বিজেপিকে ভাঙতে জানে তৃণমূল। এটাই পার্থক্য। বিজেপি কংগ্রেসকে ভাঙছে। তৃণমূল টুকরো টুকরো করে বিজেপিকে ভাঙছে। বিজেপি যে ভাষা বোঝে তৃণমূল সেই ভাষায় জবাব দিতে জানে।’ এ বারের ভোটে রাজ্যে বাম–কংগ্রেসের মধ্যে জোট হয়নি। যদিও মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুরে কিছু আসনে অঘোষিত সমঝোতা দু’পক্ষ করেছে বলে তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে ইঙ্গিত এসেছে। সিপিএম বহরমপুরে অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রার্থী না দিয়ে আরএসপি–কে আসনটি ছেড়ে দিয়েছে।
ওই সমীকরণের দিকে ইঙ্গিত করে অভিষেক এ দিন মুর্শিদাবাদে বলেন, ‘বহরমপুরে সিপিএম নাকি প্রার্থী দেয়নি। আমি বামপন্থী বন্ধুদের জিজ্ঞেস করতে চাই, ২৩ তারিখ ভোট কাকে দেবেন? অধীর চৌধুরীকে? যাঁর সিন্ডিকেটের সূর্য যখন মধ্যগগনে ছিল তখন একের পর এক সিপিএম কর্মীদের উপরে এই জেলায় অত্যাচার হয়েছিল।’ কংগ্রেসের হাত খুন হওয়া সিপিএম নেতা–কর্মীদের নামের তালিকাও জনতার সামনে তুলে ধরেন অভিষেক।
তৃণমূলের লোকসভার দলনেতার কথায়, ‘আমরা ক্ষমতায় আসার আগে বহরমপুরে খুন হয়েছিলেন সিপিএমের নেতা দেবাশিস ঘোষাল। কংগ্রেসের গুণ্ডাদের হাতে খুন হয়েছিল সিপিএম নেতা মানব সাহা, পঞ্চানন মণ্ডল, মজিদ শেখ, গোপাল মণ্ডল। মধুপুরে খুন হন বাপ্পা, সন্টু, পিন্টু। হরিহরপাড়ায় অসিত মিশ্র, ভরতপুরের তপন মুখোপাধ্যায়, দৌলতবাদে কার্তিক ঘোষ, রমজান আলি, রেওজয়ান হোসেন, মহরম আলি–– এদের কে খুন করেছিল?’ অভিষেকের এই আক্রমণের উত্তরে অধীর পাল্টা বলেন, ‘কংগ্রেসের ফল ভালো হবে বুঝে মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। লালবাগে ওঁর সভা ফ্লপ করেছে। এখানে আলতু–ফালতু কথা বলে কোনও লাভ হবে না।’