এই সময়, সাগরদিঘি: রাজ্যে বিধানসভা ভোটের প্রথম দফার বাকি চার দিন। তার আগে স্থানীয় একটি নিউজ় পোর্টালের মুখোমুখি হয়ে প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীকে 'রাজনৈতিক গুরু' বলে অভিহিত করেছেন সাগরদিঘির তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস। সাগরদিঘির কংগ্রেসের প্রতীক চিহ্নে জয়ী 'তৃণমূল' বিধায়ক বাইরনের এক মিনিট পাঁচ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় ফেলেছে।
সেই ভিডিয়োতে বায়রন বলেছেন, রাজনীতির ময়দানে তিনি অধীর চৌধুরীকে গুরু হিসেবে মানেন এবং আজীবন মনে রাখবেন। গত মঙ্গলবার সাগরদিঘিতে কংগ্রেস প্রার্থী মনোজ চক্রবর্তীর সমর্থনে সভা করেন অধীর। ওই সভা থেকে অধীর অভিযোগ করে বলেন, 'বিড়ি ব্যবসার টাকায় সবাইকে কিনে নিতে চাইছে।'
শুক্রবার রাতে এ নিয়ে বায়রন বলেন, 'কেউ কেউ বলছেন আমি টাকা দিয়ে কিনে নিচ্ছি। তা হলে এমন স্বার্থপর লোককে কেন জেতাবেন! আমি স্বার্থপর বা বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। কংগ্রেস থেকে টিকিট পেয়েছিলাম।' এর পরে আবেগপ্রবণ হয়ে তৃণমূল প্রার্থীর সংযোজন, 'অধীর চৌধুরীকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত মনে রাখব। তিনি আমার গুরুদেব। তাঁকে যে যাই বলুক, আমার কাছে ভগবানের পরে তাঁর স্থান। আমার বড়দার মতো। ছোট ভাইকে নিয়ে কিছু বলতেই পারেন। তাতে আমার দুঃখ নেই। বরং আনন্দ পাই।' বায়রনের এই মন্তব্যের পরে অধীর শনিবার বলেন, 'ওকে টিকিট দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ স্বীকার করছে যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বায়রনকে বলব, তুমি যখন বুঝতে পারছ কংগ্রেসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছ, তখন প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য সাগরদিঘির মানুষকে বলো—সবাই যেন আমাদের প্রার্থী মনোজ চক্রবর্তীকে ভোট দেয়।'
বায়রনের ওই স্বীকারোক্তি নির্বাচনের মুখে দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছে ভুল বার্তা যাবে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের মতে, এক দিকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদের ভোট প্রচারে এসে অধীরকে বিজেপির 'বি' টিম, বিজেপির এজেন্সি হয়ে কাজ করছেন বলে বিষোদ্গার করছেন। অন্য দিকে, দলের প্রার্থী অধীরকে নিয়ে অন্য ধারণা পোষণ করছেন। এতে দলের কর্মী-সমর্থকেরা বিভ্রান্ত হবেন। ২০২১-এ সাগরদিঘি বিধানসভা থেকে তৃণমূলের সুব্রত সাহা জয়লাভ করেন। কিন্তু দু'বছরের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই মৃত্যুর পরে ২০২৩-এ উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রতীকে বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী হিসেবে বায়রন জিতেছিলেন। হারিয়েছিলেন তৃণমূলের দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু জয়ের তিন মাসের মধ্যেই দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দেন বায়রন। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা প্রতিবাদ মিছিল করেন এলাকায়।
এমনকী, 'মিরজাফর' তকমা দিতেও ছাড়েননি। এই অবস্থায় ভোটের ঠিক আগে বায়রন বলেন, 'বিজেপি, অন্য কোনও প্রার্থী বা লোকাল কোনও প্রার্থীকে যদি আমার চেয়ে ভালো বলে মনে করেন, তা হলে আপনাদের কাছে হাত জোড় করে বলছি, তাঁকেই জয়ী করুন। আপনারা সার্ভিসটা নিন। সব সময়ে সুযোগ-সুবিধে ও আপনাদের কাজে লাগলে আপনারা তাঁকেই জয়ী করুন। বায়রনকে জয়ী করার দরকার নেই।' তৃণমূলের এক শ্রেণির নেতা অবশ্য বায়রনের ওই বক্তব্যকে 'রাজনৈতিক চাল' বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁরা বলছেন, 'এক ঢিলে বায়রন অনেক পাখি মেরেছেন। তাঁর বলা কথায় আবেগ রয়েছে। ফলে মানুষ তাঁর কথাগুলো ভাল ভাবে নিয়েছেন।' এ ব্যাপারে ভোট প্রচারের মাঝে শনিবার রাতে বায়রন বলেন, 'আমি আমার উপলব্ধির কথা ভাগ করে নিয়েছি। এর মধ্যে কোনও রাজনীতি ছিল না। ফলে আমার বলা কথা নিয়ে আশা করি কেউ রাজনীতি করবেন না।'