• অভয়ার মৃত্যু ঘোষণা করা ডাক্তারের ভাগ্নি নিখোঁজ, উদ্বিগ্ন পরিবার
    এই সময় | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, গাইঘাটা: ভোটের আবহে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে গেল কলকাতার আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার তাপস প্রামাণিকের নাবালিকা ভাগ্নি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও তার সন্ধান না মেলায় গাইঘাটা থানায় মিসিং ডায়েরি করা হয়েছে পরিবারের তরফে। নিখোঁজ হওয়ার পরে ইতিমধ্যেই কেটে গিয়েছে ৭২ ঘণ্টা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ নাবালিকার কোনও সন্ধান দিতে পারেনি গাইঘাটা থানার পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে খুবই উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে পরিবারের লোকেদের।

    গাইঘাটা থানার পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, নাবালিকার খোঁজে তল্লাশি চলছে। বিষয়টি খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তাঁরা।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ নাবালিকার বয়স মাত্র ১৪ বছর। সে ক্লাস নাইনের ছাত্রী। বাড়ি গাইঘাটা থানার ঠাকুরনগরে। ৩ বছর বয়সেই সে তার মাকে হারিয়েছে। মায়ের মৃত্যুর পরে বাবা সন্তানের দায়িত্ব নিতে রাজি ছিলেন না। সেজন্য ওই নাবালিকা তার মামার কাছে থাকত। মামা তাপস প্রামাণিক আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার পদে কর্মরত। তিনিই আরজি কর হাসপাতালে খুন হওয়া অভয়াকে মৃত বলে ঘোষণা করেছিলেন। তারপর থেকেই আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম প্রতিবাদী মুখ হয়ে ওঠেন তাপস। অভয়ার পরিবারের সঙ্গেও তাঁর এখনও যোগাযোগ রয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজনৈতিক ভাবে তাপস বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি, সজল ঘোষ এবং অভয়ার মায়ের হয়েও ভোটের প্রচারে অংশ নিয়েছেন। তাই তাঁর ভাগ্নির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় রহস্য তৈরি হয়েছে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৬ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত তাপস আরজি কর হাসপাতালে ডিউটিতে ছিল। তারই মধ্যে তিনি জানতে পারেন, তাঁর নাবালিকা ভাগ্নি নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘ওই দিন ভাগ্নি টিউশন পড়তে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। তারপর থেকে তার আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।’ বিষয়টি জানার পরেই তড়িঘড়ি তাপস চলে যান গাইঘাটা থানায়। মিসিং ডায়েরি করেন। পাশাপাশি নিজেরাও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত নিখোঁজ নাবালিকা ভাগ্নির কোনও সন্ধান পাননি তাঁরা।

    তাপস জানিয়েছেন, নিখোঁজ ডায়েরি করার পরে ৭২ ঘণ্টা কেটে গেলেও নাবালিকা ভাগ্নির কোনও সন্ধান দিতে পারেনি গাইঘাটা থানার পুলিশ। তিনি ‘এই সময়’কে বলেন, ‘আমি অভয়াকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিলাম। রাজনৈতিক ভাবে আমি বিজেপি প্রার্থীর হয়ে প্রচারেও অংশ নিয়েছি। এর জন্যই কি আমার নাবালিকা ভাগ্নিকে কেউ অপহরণ করেছে? আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। গাইঘাটা থানার পুলিশ কোনও ইতিবাচক খবর দিতে পারছে না। এই অবস্থায় আমি রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছে আবেদন করছি, দ্রুত আমার নাবালিকা ভাগ্নিকে উদ্ধার করে দিন।’

    গাইঘাটা থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানান, অভিযোগ আসা মাত্রই নিখোঁজ নাবালিকাকে উদ্ধারের জন্য সবরকম ভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। নিখোঁজ নাবালিকার কাছে কোনও মোবাইল ফোন না থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)