• মোদী আসার আগেই শক্তিপ্রদর্শন, পদযাত্রায় রাস্তায় নামলেন মমতা
    এই সময় | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, হাওড়া: ২৩ এপ্রিল উত্তর হাওড়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রস্তাবিত রোড শো–র আগে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে হাওড়ায় শক্তি প্রদর্শন করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে হাওড়া ময়দান থেকে উত্তর হাওড়ার পিলখানা পর্যন্ত দীর্ঘ পদযাত্রা করেন তিনি। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই কর্মসূচিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি প্রদর্শন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    এ দিনের পদযাত্রা শুরু হয় হাওড়া ময়দান মেট্রো চ্যানেলের সামনে থেকে। সেখান থেকে বাঙালবাবু ব্রিজ, ডবসন রোড হয়ে পিলখানার দিকে এগোয় মিছিল। রাস্তার দু’ধারে মুখ্যমন্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য সকাল থেকেই মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বহু মানুষ হাতে তৃণমূলের পতাকা, আবার অনেকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখোশ পরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মিছিল চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী হাত নেড়ে এবং নমস্কার জানিয়ে মানুষের অভিবাদনের জবাব দেন।

    দিনের শুরুতেই হাওড়ার পাঁচলায় জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পরে বারুইপুর, ভাঙড় ও সোনারপুরে সভা সেরে হেলিকপ্টারে হাওড়ায় পৌঁছন। সেখান থেকেই সরাসরি পদযাত্রায় অংশ নেন তিনি। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও কর্মসূচির ঘনত্ব থেকেই স্পষ্ট, নির্বাচনের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না শাসকদল।

    এই পদযাত্রা হাওড়া মধ্য বিধানসভা কেন্দ্র পেরিয়ে উত্তর হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রে পৌঁছয়। মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায় শিবপুর কেন্দ্রের প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায়কে। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মধ্য হাওড়ার প্রার্থী ও তিন বারের মন্ত্রী অরূপ রায় এবং উত্তর হাওড়ার প্রার্থী গৌতম চৌধুরী।

    মিছিল চলাকালীন একাধিক জায়গায় আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল হাওড়া। ডবসন রোডের এসি মার্কেটের সামনে এক বৃদ্ধ মুখ্যমন্ত্রীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন। আবার জৈন মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে মন্দিরের দিকে নমস্কার জানাতে দেখা যায় তাঁকে। গুলমোহর ময়দানের কাছে রেল কোয়ার্টারের বাসিন্দাদের দিকেও হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    তবে এই কর্মসূচির জেরে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও কম ছিল না। সকাল থেকেই উত্তর হাওড়া থেকে হাওড়া ময়দানগামী বাস, অটো ও টোটো চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে, বহু মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়। কর্মক্ষেত্রে যাওয়া বা দৈনন্দিন কাজে বেরনো মানুষদের ভোগান্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও।

    প্রাথমিক ভাবে শোনা গিয়েছিল, আগের নির্বাচনের মতো ইছাপুর জলট্যাঙ্ক থেকে উত্তর হাওড়া পর্যন্ত দীর্ঘ মিছিল হবে, যাতে একসঙ্গে তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র কভার করা যায়। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে রুট পরিবর্তন করে হাওড়া ময়দান থেকে পিলখানা পর্যন্ত পদযাত্রার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, সময় ও নিরাপত্তাজনিত কারণেই এই পরিবর্তন।

    মিছিলের নির্ধারিত শেষ ছিল পিলখানা মোড়ে। তবে সেখানে পৌঁছে আচমকাই রুট পরিবর্তন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পিলখানা মোড় থেকে তিনি সরাসরি পিলখানা বস্তির দিকে পদযাত্রা এগিয়ে নিয়ে যান। এই এলাকা মূলত মুসলিম অধ্যুষিত এবং সেখানে মানুষের জমায়েত ছিল উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি। ছাদ থেকে ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। তিনি হাত নেড়ে সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

    এর পরে মিছিল ঘুরে সালকিয়া চৌরাস্তা হয়ে শ্রী অরবিন্দ রোডে পৌঁছয়। শেষ হয় শীতলা মায়ের মন্দিরে প্রণাম জানিয়ে। মিছিলের পথে বহু মানুষ মুখ্যমন্ত্রীকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত নথি বা উপহার তুলে দেন, যা নিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের বার্তা দেন।

    তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে পদযাত্রার ভিড় নিয়ে। বিরোধীদের দাবি, আগের নির্বাচনের তুলনায় এ দিন ভিড় কিছুটা কম ছিল। যদিও শাসকদলের দাবি, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই এই কর্মসূচির মূল সাফল্য।

  • Link to this news (এই সময়)