এই সময়, জামালপুর: নারীশক্তি নিয়ে বিজেপিকে বিঁধলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে ধর্মের ভিত্তিতে বিজেপি দেশভাগের চক্রান্ত চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে বলেন, 'এই রাজ্যের নাম বাংলা। এখানে যারা ধর্মের তাস খেলতে আসবে, তারাই হারিয়ে যাবে।' তিনি এ দিন এ কথা বলেন জামালপুর বিধানসভার সেলিমাবাদ ফুটবল ময়দানের জনসভায়। জামালপুরের তৃণমূল প্রার্থী ভূতনাথ মালিকের সমর্থনে এই সভা হয়।
তিনি এ দিন বলেন, 'সংসদে বিল এনে ওরা দেশ ভাগ করতে চেয়েছিল, সংবিধান পাল্টাতে চেয়েছিল। আমরা বিরোধীরা মিলে সেটা আটকেছি। করতে দিইনি।' এর পরেই তিনি বলেন, 'বিজেপি বলছে, ওরা না কি মহিলা সংরক্ষণ বিল এনেছে। মহিলা সংরক্ষণ করতে গেলে মানসিকতা বদলানো উচিত। এ বছর বিধানসভা ভোটে বিজেপি এ রাজ্যে ৩৩টি আসনে মহিলা প্রার্থী দিয়েছে। সেখানে তৃণমূল ৫২টি আসনে মহিলা প্রার্থী দিয়েছে।' কেন্দ্রের সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, 'এ রাজ্যের মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, ইডি, সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স, ইলেকশন কমিশন-সহ সব কেন্দ্রীয় বাহিনী একদিকে আর বাংলার মেয়ে একদিকে। এটাই বাংলার মেয়েদের ক্ষমতা।'
বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, 'ওরা মহিলাদের সম্মান দেয়নি। দেশের বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতেই মহিলারা সবথেকে বেশি অত্যাচারিত। গোটা দেশের মধ্যে উত্তরপ্রদেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা সর্বাধিক।' তিনি আরও বলেন, 'দেশের ১৬টি রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। আমাদের রাজ্যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী দু'কোটি ৪২ লক্ষ মায়েদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছেন। একটি রাজ্যেও তা ওরা দিয়েছে কিনা, বলতে বলুন। বিহারে টাকা দিয়ে সেই টাকা ফেরত চাওয়া হচ্ছে। আর এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সারা জীবন আপনাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।'
ভাষণে মঞ্চে উপস্থিত দলের মহিলা কর্মী-সহ উপস্থিত সবাইকে বলেন, 'বিজেপি তো ১৬ দিন পরে আর আসবে না। মায়েদের বলব, বাড়ির ঝাঁটাটা নাগালে রাখুন। মারার জন্য নয়। এলে ঝাঁটা ধরিয়ে দিয়ে বলবেন, ঘরদোর পরিষ্কার করে দিতে। আর ভাইদের বলব, এই কটা দিন পয়সা খরচ করে দাড়ি কাটবেন না। বাড়িতে এলে খুর ধরিয়ে দিয়ে বলবেন দাড়ি কেটে দিতে।' এ বছর আলুর ফলন ভালো হওয়ায় অনেক চাষিকে অভাবী বিক্রি করতে হয়েছে। অভিষেক তা উল্লেখ করে বলেন, 'রাজ্য সরকার এই বিধানসভা কেন্দ্রে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, 'এখানকার ১৫টি পঞ্চায়েত এলাকায় ১৪০ কোটি টাকায় ২৮৭টি রাস্তা হয়েছে। মোট দৈর্ঘ্য ৪৫০ কিলোমিটার। এর পাশাপাশি ঠান্ডা পানীয় জলের ৩০০টি মেশিন বসানো হয়েছে, রাস্তায় রাস্তায় লাগানো হয়েছে সোলার লাইট, তৈরি করা হয়েছে কমিউনিউটি হল। ভাষণে তৃণমূলকে জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'এই বিজেপি যে ভাবে আমাদের একের পর এক লাইনে দাঁড় করিয়েছে, ঝড়-জল-বৃষ্টি-বাদল যা-ই হোক, ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ওদেরও তেমন জবাব দেবেন।'