• দুই শরিক দলের লড়াই: ভোট পরবর্তী হিংসা চরমে ত্রিপুরায়
    বর্তমান | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • বিশেষ সংবাদদাতা, আগরতলা : শুক্রবার পাহাড় এলাকার ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই উত্তপ্ত ত্রিপুরা। ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল ভোটে দাপটের সঙ্গে জিতেছে রাজ্যের বিজেপি জোট সরকারের শরিক দল তিপ্রামথা। তারপর থেকেই একের পর এক হিংসার ঘটনা সামনে আসছে। শনিবারও তা অব্যাহত। শুক্রবার রাতে বিশ্রামগঞ্জের পুষ্করবাড়ি এলাকায় বিজেপি কর্মী সুরেশ দেববর্মার বাড়িতে তিপ্রামথার সর্মথকরা প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ। একাধিক পেট্রল বোমা ছোড়া হয়। গুলতি দিয়েও হামলা চলে। পুলিশ এসে কোনওক্রমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আক্রান্ত বিজেপি কর্মী প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘এ কেমন পরিস্থিতি? সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?’ 

    গভীর রাতে মান্দাইয়ে  বিজেপির দলীয় কার্যালয় জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। শিলাছড়ি মনুবনকুল  আসনে বিজেপি প্রার্থীর জয়ের পর মনুবনকুল পুরানো ও নতুন বাজার বন্ধ করে দেয়া হয়। সেখানে পরিস্থিতি এখনও থমথমে। 

    খোয়াই জেলাতেও রাতে একাধিক বিজেপি নেতা-কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। রামচন্দ্রঘাট আসনের বিজেপি প্রার্থী ডেভিড দেববর্মার রতনপুরের বাড়ি ও আমপুরা এলাকায় বুথ সভাপতি দ্বীপায়ন দেববর্মার বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। দ্বীপায়নের বৃদ্ধ বাবা-মাকেও মারধর করা হয়। শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শনে যান মন্ত্রী টিঙ্কু রায় ও বিজেপির অন্যান্য নেতারা। মন্ত্রীর হাতে-পায়ে ধরে কানায় ভেঙে পড়েন আক্রান্তরা।  এরইমধ্যে শনিবার আমতলী গোলাঘাটি কেন্দ্রের বিজেপির বুথ  সভাপতি সনজিৎ দেববর্মার বাড়িতে দুষ্কৃতীরা পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। তখন বাড়িতেই  ছিলেন সনজিৎ,তাঁর স্ত্রী ও চার বছরের সন্তান। এক্ষেত্রেও তিপ্রামথার দিকে আঙুল উঠেছে। সনজিৎ বলেন, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় প্রাণ বাঁচাতে তিনি সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে পাশের জঙ্গলে পালিয়ে যান।  এই হিংসার কড়া নিন্দা করেছেন তিপ্রামথা প্রধান প্রদোৎ কিশোর দেববর্মা। তিনি বলেছেন, এধরনের হামলা বরদাস্ত করা যায় না। পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। এরইমধ্যে এডিসিতে বোর্ড গঠনের জন্য প্রদ্যোৎ ও দলীয় নেতৃত্ব রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লুর সঙ্গে দেখা করেছেন।  
  • Link to this news (বর্তমান)