• সংসদে মোদির হার, উজ্জীবিত বিরোধী শিবির
    বর্তমান | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘মৌন কিঁউ?’ (এত চুপচাপ কেন?) শনিবার সকালে বেনজিরভাবে বিরোধীদের বৈঠকে হাজির হয়ে এটাই ছিল সোনিয়া গান্ধীর প্রথম মন্তব্য। তারপরই যেন সম্বিত ফিরল সকলের। ডেরেক বললেন, ‘লেটস সেলিব্রেট!’ শুক্রবারই যে লোকসভায় ২৩০ আসনের শক্তি প্রদর্শনে মোদি সরকারের বিল আটকেছে একজোট বিরোধীরা। লড়াইয়ে পাশে থাকার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেসেজ করেন সোনিয়া। আর ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ২২টি দলের সাফল্যের সেলিব্রেশনের হাওয়া বয়ে গেল ‘জি-১৯’ নম্বর ঘরে। নতুন সংসদ ভবনে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গের ঘরে এল তিনকোনা সন্দেশ আর চমচম। সঙ্গে চা, বিস্কুট। তা দিয়েই উদযাপন করা হল গত ১২ বছরে সংসদে প্রথমবার নরেন্দ্র মোদির পরাজয়ের। নেওয়া হল শপথ—আগামী দিনেও জোট অটুট রাখা হবে। সেইমতো নতুন করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যুত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন অভিযোগ সামনে রেখে তৈরি হচ্ছে নয়া নোটিসের খসড়া। এব্যাপারে মূল উদ্যোগী সেই তৃণমূলই।

    অধিবেশন চলাকালীন সংসদ ভবনের একতলার এই ঘরেই বসে বিরোধীদের বৈঠক। সেখানে সাধারণত হাজির থাকেন না সোনিয়া। তবে এদিন তিনিই মধ্যমণি। সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। আর উভয়ের মাঝে তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন। কয়েকটি আসন ছেড়ে কাকলি ঘোষদস্তিদার। এছাড়া সুপ্রিয়া সুলে, এন কে প্রেমচন্দ্রন, সঞ্জয় রাউতের মতো বিরোধীরা। তাঁদের মতে, ডিলিমিটেশন (এলাকা পুনর্বিন্যাস) বিল আটকানো হল ট্রেলার। এরপরের পরীক্ষা ৪ মে পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফলাফল। আর ২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি বধ! ঠিক হল, বিজেপি যেভাবে বিরোধীদের গায়ে মহিলা বিরোধী তকমা লাগাতে চাইছে, সেটির পালটা প্রচার করা হবে। অস্ত্র হবে, ডিলিমিটেশন বিল! সেই মতো সংসদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য  মুলতুবি হতেই বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলন করলেন প্রিয়াঙ্কা। 

    এদিন ছিল স্বামী রবার্ট ওয়াধেরার জন্মদিন। দুপুরে পরিবারের সঙ্গে বিশেষ লাঞ্চ। তবুও বিরোধীদের অনুরোধে ২৪ আকবর রোডের সাংবাদিক সম্মেলন করলেন প্রিয়াঙ্কা। বললেন, ‘বিজেপি আমাদের মহিলা বিরোধী তকমা দিচ্ছে। মোটেই তা নয়! মোদি সরকারের এই বিল তো মহিলা সংরক্ষণ বিলই ছিল না। ওটা ছিল ডিলিমিটেশন বিল। ২০২৩ সালে তৈরি মহিলা সংরক্ষণ আইন গত ১৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর বলে সরকারই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তাই আমাদের দাবি, এখনই তা চালু করা হোক। ডিলিমিটেশন না করে ৫৪৩ আসনেই কেন কার্যকর করছেন না মোদিজি?’ বিরোধীদের দিকে আঙুল তুলতে রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি কার্যত স্বীকার করে নেন, সংখ্যা নেই, তাই বিল পাশ করাতে পারলাম না! এ থেকে স্পষ্ট যে ২০২৪ সালে ‘আব কি বার চারশো পার’ না হওয়ার চরম লোকসান প্রথমবার উপলব্ধি করেছেন মোদি। আর তাই তো বলেই ফেললেন, ‘কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী, ডিএমকের মতো পার্টি নারীশক্তি ক্ষমতায়নের ভ্রূণহত্যা করেছে!’
  • Link to this news (বর্তমান)