পরিচিত মুখ রহিম বক্সির উপরেই এবার ভরসা করছেন জালালপুরের প্রবীণরা
বর্তমান | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
উজির আলি, চাঁচল: একসময় লাল মাটির রাস্তা আর বর্ষায় কাদা ভেঙে যাতায়াত ছিল নিত্যদিনের দুর্ভোগ। বর্তমানে সবকিছুই বদলে গিয়েছে। পাকা রাস্তা, নিয়মিত পানীয় জলের ব্যবস্থা সহ একাধিক উন্নয়ন হয়েছে মালতীপুর বিধানসভার জালালপুর অঞ্চলে।
সেই পরিবর্তনের অভিজ্ঞতাই যেন সামনে এনে দিল পাড়ার মোড়ের এক চৌকিতে বসে হওয়া ধ্বনি ভোট। দুপুরে জালালপুরের ওই চৌকিতে জমেছিল সাত, আটজন প্রবীণ ভোটারের আড্ডা। কারও বয়স ৭০ পেরিয়েছে, কারও বা ৭৫। বয়সের ভারে দূরে কোথাও যাওয়া সম্ভব হয় না তাঁদের। তাই সকাল-সন্ধ্যা পাড়ার মোড়ে বসেই গল্প গুজবে সময় কাটে তাঁদের। সেই আড্ডার মাঝেই এদিন ভরদুপুরে উঠে আসে ভোটের প্রসঙ্গ। সেখানেই কার্যত ধ্বনি ভোটে পছন্দের প্রার্থী বেছে নিলেন তাঁরা।
প্রবীণ ভোটারদের কথায়, গত কয়েক বছরে এলাকায় যে পরিবর্তন এসেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। বার্ধক্য ভাতা, কৃষক বন্ধু প্রকল্প, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি পাচ্ছেন তাঁরা ও পরিবারের সদস্যরা। ফলে, ভোটের মরশুমে উন্নয়নের প্রশ্নটাই তাঁদের কাছে মুখ্য হয়ে উঠেছে। মালতীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২১ সালে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী আব্দুর রহিম বক্সি। এবারও তিনিই সেখানে তৃণমূল প্রার্থী।
২০১১ সালেও এই এলাকার বিধায়ক ছিলেন তিনি। এবার তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেত্রী মৌসম নুর। তিনি প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গনি খান চৌধুরীর ভাগ্নি। এর আগে উত্তর মালদহের সাংসদ ও রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। ফলে তাঁকে ঘিরে মালতীপুর জুড়ে ভোটের অঙ্কে আলাদা চর্চা তৈরি হয়েছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে ভোটের লড়াই তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যেই বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দাবি করছেন।
তবে, সেক্ষেত্রে জালালপুরের একাংশ প্রবীণ ভোটারদের কথায়, পরিচিত মুখের উপরই ভরসা বেশি। সাদেক আলি বলেন, রহিম বক্সি দু’বারের বিধায়ক। আমরা তাঁকে ভালোভাবেই চিনি। মৌসম এবার মালতীপুরে নতুন প্রার্থী। তাঁকে কীভাবে গ্রহণ করবে এলাকার মানুষ, সেটা দেখার। সত্তরোর্ধ্ব আব্দুল সাত্তারের দাবি, রহিম বক্সিকে এলাকায় সহজেই পাওয়া যায়। ছোটোখাটো অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত থাকেন।
৭২ বছরের নুর ইসলাম আবার সরাসরি উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বার্ধক্য ভাতা, কৃষক বন্ধু সবই পাচ্ছি। আগের মতো আর কাঁচা রাস্তা নেই এলাকায়, অলিগলি সব পাকা হয়েছে। আড্ডা স্থলের বাম ও ডান দিকের সংযোগকারী ১০ কিমি রাস্তা সদ্য পাকা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ওই এলাকায় বিজেপির উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ফলে মূল লড়াই কার্যত তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।