সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: বৈশাখের দুপুর। হালকা রোদ। সঙ্গে বাতাসের ঝাপটা। হাইমাস্টে পতপত করে উড়ছে জাতীয় পতাকা। নীচে প্রদর্শিত স্ট্রিম ইঞ্জিন। পাশে নির্মীয়মাণ উড়ালপুলের পিলার। গা ঘেঁষে দাঁড় করানো কয়েকটি রিকশ। আর একপাশে ফুচকাওয়ালার স্টল। ইতিউতি ঘোরাঘুরি করছেন কুলি, দোকানদার, ট্যাক্সি চালক ও অপেক্ষমান ট্রেন যাত্রীরা। শনিবার বেলা ১টা ৪০ মিনিট নাগাদ একসঙ্গে তিনটি ট্রেন ঢুকতেই আমূল পালটে যায় এনজেপি স্টেশন চত্বরের সেই ছবি। স্টেশন থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন প্রচুর অবাঙালি মানুষ। তাঁদের কারও গলায় হিন্দিতে রাধে রাধে লেখা উত্তরীয়। কথা বলতে গেলে কেউ ঘাড় ও হাত নাড়িয়ে এড়িয়ে যান। কেউ কেউ সাড়াই দেননি।
কেন এভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন যাত্রীরা? কয়েকজন গাড়িচালক বললেন, প্রতিটি ট্রেনেই অবাঙালিরা আসছেন। বিশেষ করে ভোরের ট্রেনগুলিতে অবাঙালিদের ভিড় বেশি থাকছে। সম্ভবত ভোটের মরশুম হওয়ায় তাঁরা চট করে মুখ খুলতে চাইছেন না। তবে, গাড়িতে চেপে গন্তব্যে যাওয়ার সময় তাঁদের একাংশ ভোটের হাওয়া নিয়ে জল মাপছেন। বিশেষ করে পদ্মপার্টি সম্পর্কে তাঁদের আগ্রহ বেশি।
এমন প্রেক্ষাপটে শিলিগুড়িতে বহিরাগতদের আনাগোনা নিয়ে ভোটের ময়দানে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের আশঙ্কা, চোরাপথে ভোটার তালিকায় বহিরাগতদের নাম তুলে ভোট করাতে পারে বিজেপি। এজন্য বুথে বুথে নজরদারি টিম গড়েছে তারা।
শিলিগুড়ির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম দেবের নির্বাচনি এজেন্ট কুন্তল রায় বলেন, বিহার, অসম, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান সহ বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দাদের আনাগোনা এখানে বেড়েছে। শুধু রেল স্টেশন বা বাসস্ট্যান্ড নয়, শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে এমন খবর মিলছে। তাঁর আশঙ্কা, লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নামে ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ভোটারদের জায়গায় বহিরাগতদের নাম ঢোকাতে পারে পদ্ম শিবির। তারা ভোটের দিন বহিরাগতদের কাজে লাগাতে পারে।
এমন আশঙ্কা করে ভোটযুদ্ধের ময়দানে বিশেষ নজরদারি টিম নামিয়েছে জোড়াফুল শিবির। দলীয় সূত্রের খবর, পুরসভার ৩৩টি ওয়ার্ড নিয়ে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র। এখানে বুথের সংখ্যা ২৫০টি। বুথ লেবেল এজেন্টদের (বিএলএ) নেতৃত্বে প্রতি বুথে একটি করে টিম গড়া হয়েছে। দশজন করে সদস্য রয়েছেন।
তৃণমূল প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্ট বলেন, বহিরাগতদের গতিবিধির উপর নজর রাখবে ওই টিম। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্দেহ হলেই টিমটি দলের কাছে রিপোর্ট করবে। শীঘ্রই বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগও জানানো হবে। এরপরও ভোটের দিন বহিরাগতদের বিজেপি ময়দানে নামালে গণ প্রতিরোধের সঙ্গে চলবে আইনি লড়াই।
যদিও, বিষয়টি মানতে নারাজ পদ্ম শিবির। তারা তৃণমূলের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছে। পদ্মপ্রার্থী শংকর ঘোষের নির্বাচনি এজেন্ট অমিত জৈন বলেন, তৃণমূলের বক্তব্য পুরোপুরি মিথ্যা। নির্বাচনে হার বুঝতে পেরে ওরা ভুল বকছে। ওরা দেশকে কতটা ভালোবাসেন, তা ওদের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট। প্রতিবেশী রাজ্যের বাসিন্দাদের বহিরাগত তকমা দিয়ে ওরা নিম্নরুচির পরিচয় দিচ্ছে।