মঙ্গল ঘোষ,পুরাতন মালদহ: বয়স একাত্তর। এই বয়সেও যেন চির নতুন পুরাতন মালদহ পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান নবরঞ্জন সিনহা। ভোটে দলের প্রার্থীর হয়ে দিনরাত এক করে ছুটছেন বিভিন্ন এলাকায়। কখনও দলীয় কর্মীর বাইকে চেপে শহরের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত, আবার কখনও প্রার্থীর সঙ্গে হেঁটে ঘুরছেন শহরের ২০টি ওয়ার্ডে। বয়স যে একটা সংখ্যামাত্র, সেটাই প্রমাণ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মালদহ জেলা সহ সভাপতি নবরঞ্জন। প্রয়াত গনিখান চৌধুরীর অন্যতম সৈনিক নবরঞ্জন পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে মালদহের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। গনির হয়ে ৮ বার নির্বাচনি লড়াইয়ের সাক্ষী তিনি। বার্ধক্যজনিত কারণে মুখমণ্ডল একটু কুঁচকে গিয়েছে। শরীরও আগের মতো আর পোক্ত নয়। তবুও ভোটের ময়দানে ছুটে চলেছেন যুবদের মতো। মালদহ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী লিপিকা বর্মন ঘোষকে জেতাতে শহরের ২০টি ওয়ার্ডেই ছুটছেন নবরঞ্জন। শুক্রবার সন্ধ্যায় পুরাতন মালদহ শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার করেন তিনি। ঢাকের তালে মির্জাপুর, রবীন্দ্রপল্লি, নীচু অংশ সহ একাধিক পাড়ায় প্রার্থীর সঙ্গে হেঁটে প্রচার করেন নবরঞ্জন। পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম সহ মহিলা, যুব নেতাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাঁটতে দেখা যায় এই নেতাকে। ‘তরুণ’ এই নেতাকে প্রচারে পেয়ে আত্মবিশ্বাসী লিপিকা। বলেন, আমরা একজোট হয়ে প্রচারে নেমেছি। ভালো সাড়া মিলছে। এই বয়সেও নবরঞ্জনবাবু যেভাবে নির্বাচনি প্রচারে থাকছেন, তার প্রশংসা করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। নবরঞ্জন বলছেন, ৫২ বছর ধরে রাজনীতি করছি। বরকতদার সময় থেকে রাজনীতি করি। দীর্ঘদিন গনির সৈনিক থাকার পর দলবদল করলেও রাজনীতির ময়দান ছাড়েননি তিনি। দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনীতিতে পরিবর্তন কতটা হয়েছে? নবরঞ্জনের বক্তব্য, বর্তমান রাজনীতি জাতপাতের। বাংলার মেয়েকে হারাতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আসছেন। তবুও দিদি জিতবেন। মালদহেও তৃণমূল জিতবে।
প্রার্থী সম্পর্কে জেলা সহ সভাপতি বলছেন, লিপিকা যোগ্য, ভালো মেয়ে। সে জিতবে। প্রচারে মানুষের উচ্ছ্বাসই তার প্রমাণ দিচ্ছে।